জানা গেছে, জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছে।প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিতে চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে এসব ক্লিনিকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর সপ্তাহে ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিকে আসেন। খোলেন এবং কখনো এক দুই ঘণ্টা চালু রাখেন। আবার কতদিন তারা আসেনই না। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীরা অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে শেষে ফিরে যেতে হয় রোগীদের। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে সেবা প্রার্থীরা।
মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে সকাল সোয়া ১০টায় দেখা যায় তালা বন্ধ। আবার ১টা ৫৩ মিনিটে ক্লিনিকের পাশে বাজারে দেখতে পাওয়া যায় (HCP) সাফিকুল ইসলামকে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এর কারণ কি? তিনি এর কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। সাফিকুল ইসলাম কোনো প্রতি উত্তর না দিয়ে যান ক্লিনিকে। তারপর ক্লিনিক থেকে ফিরে এসে উত্তরে বললেন, চা খাওয়ার জন্য গেছিলাম। জিজ্ঞেস করা হয় অফিস কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত? বলেন, নয়টা থেকে তিনটা। আপনি সকালে কয়টায় অফিস আসছেন। উনি বলেন, জানি না। সময় দেখি নাই।
তবে গোয়ালের চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, খুব একটা না- তবে মোটামুটি আসে।
.png)
পলাবান্দা ইউনিয়নের তিনটি ক্লিনিক রয়েছে। দুইটি বন্ধ পাওয়া যায়। শুধু উত্তর সিরাজাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা। সেখানে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (HCP) জেসমিন বলেন, প্রতিদিন তিনি অফিসে আসেন চিকিৎসাসেবা দেন। তবে ওষুধ অপ্রতুল্য বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন, পলাবান্দা ইউনিয়নের তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (HCP) দুইচার দিন আসেন। আবার অনেকেই আসেন না। রোগীরা এলেও তাদের জবাব একটিই ওষুধ নাই।
মালমারার কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার সময় অটোচালক জুয়েল শেখ বলেন, কোথায় যাবেন? মালমারা কমিউনিটি ক্লিনিকে তখন জুয়েল শেখ বলেন, ওইখানে যেয়ে কি করবেন সেখানকার (HCP) মাহফুজা বেগম অফিসে আসেন না। মাসে দেখি একদিন কি দুই দিন।
কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দাতা নইমদ্দী চেয়ারম্যানের স্ত্রী সাযেদা বেগম বলেন, ওই মহিলা বারোটায় এলে একটায় চলে যায়। কেউ ওষুধ চাইলে ওষুধ দেয় না। একইভাবে অভিযোগ করেন ষাটোর্ধ্ব রাহেলা বেগম, সোনা মিয়া, অষ্টম শ্রেণির সিয়াম। তারা সবাই বলেন, ক্লিনিকে গেলে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নিয়মিত তদারকির কথা থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত বলে মনে হচ্ছে। সিএইচসিপি, স্বাস্থ্য সহকারী কে দায়িত্বে রয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ইসলামপুরের হাসপাতালে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। সাধারণ মানুষের সেবা প্রদানের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থা করে দিযেছি।
সরকার প্রতিটি ক্লিনিকে টাকা খরচ করলেও পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তদারকির অভাবে সিএইচসিপি, এইচএ, এফডব্লিউএ দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হলেও রোগীরা আকাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রপাইটর (HCP) নিয়মিতভাবে অনুপস্থিতির কারণসহ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র না থাকার কারণে এলাকাবাসী দিন দিন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।