চরফ্যাশনে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন
২০১৩ সালের জাতীয়করণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণসহ তিন দফা দাবিতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শনিবার সকালে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি চরফ্যাশন উপজেলা শাখার আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপজেলা সভাপতি মো. ইব্রাহিম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও বিভিন্ন কারণে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয় সেই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই প্রত্যন্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু জাতীয়করণের বাইরে থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, ৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত, জমির দলিল থাকা এবং পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করা বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় নেওয়ার কথা ছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, সারাদেশের প্রায় ৩১ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলা পর্যায় থেকে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতার বাইরে থেকে যায়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুব আলম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের মূল্যবোধ ও মানবিকতা গঠনের অন্যতম ভিত্তি। বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এছাড়া বাদ পড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, সরকারি উপবৃত্তি এবং অন্যান্য শিক্ষা-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানে নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক শিশু পড়াশোনা করে। সরকারি উপবৃত্তি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণও বাড়বে।
মানববন্ধনে বক্তারা ২০১৩ সালের জাতীয়করণের গেজেট থেকে বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সরকারি উপবৃত্তিসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোকে কেজি নীতিমালার আওতায় নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির দাবিও জানান তারা।
মানববন্ধনে ভোলা জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. ছালাহ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদ উল্লাহ, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোসা. সাকিয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. ইলিয়াছ, মো. শাহিন আলাল ও মো. জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
.png)