মিরসরাইয়ে মা ও শিশু কেন্দ্রে ওষুধ সংকট
গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে সরকার। তবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ওষুধ সংকট চলছে। সরকারি সরবরাহে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের অনেককেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রটিতে প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখানে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করার কথা। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে সরবরাহ কমতে কমতে একপর্যায়ে প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের সংকট চলছে।
.png)
সরেজমিনে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের পাশেই রয়েছে ওষুধ বিতরণ কক্ষ। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফার্মাসিস্ট মাহমুদুল হাসান। কক্ষের শোকেসগুলো প্রায় খালি। ওষুধের পরিবর্তে পড়ে আছে রেজিস্টার।
ফার্মাসিস্ট মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলা থেকে প্রায় এক বছর ধরে কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি। আগে যে ওষুধগুলো ছিল, সেগুলো রোগীদের মধ্যে বিতরণের পর শেষ হয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কেন্দ্রটিতে প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিক প্রসব করানো হলেও ওষুধের সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যাও কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতি মর্জিনা আক্তার বলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রে কোনো ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারি কেন্দ্রে আসার পরও বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।
আরেক রোগী কামরুন নাহার বলেন, চিকিৎসক ওষুধ লিখে দিলেও তা কেন্দ্র থেকে পাননি। তার স্বামী শ্রমিক হওয়ায় বাইরে থেকে ওষুধ কেনার মতো সামর্থ্যও তাদের নেই।
দীর্ঘদিনের এ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক পরিবারের মানুষ। বিনামূল্যে ওষুধ না পেয়ে তাদের দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল ও ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
হিঙ্গুলী ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মৌসুমি বড়ুয়া বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় স্থানীয়রা চিকিৎসাসেবা পেলেও সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিত মোদক বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ওষুধ সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। এটি শুধু হিঙ্গুলীর সমস্যা নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই পরিস্থিতি রয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ওষুধ সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ পাওয়া গেলে তা রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।