ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সৌদিতে মাটিচাপায় প্রবাসীর মৃত্যু, টাকার অভাবে মরদেহ আনা অনিশ্চিত

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৪৫, ৩ অক্টোবর ২০২৬
সৌদিতে মাটিচাপায় প্রবাসীর মৃত্যু, টাকার অভাবে মরদেহ আনা অনিশ্চিত
ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের সচ্ছলতা আনতে ৫ লাখ টাকা ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বরগুনার ইসমাইল হোসেন (৪০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই কর্মস্থলে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এখন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতেও প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টাকা। পরিবারের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব না হওয়ায় স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন নিহতের স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় পাইপলাইনের গভীর গর্তে কাজ করার সময় মাটি ধসে চাপা পড়ে নিহত হন ইসমাইল। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের জ্যেষ্ঠ ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে ইসমাইল ছিলেন সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। এ সময় তাকে প্রায় ৫ লাখ টাকা ধার-দেনা করতে হয়। সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রথমদিকে কিছুদিন বেকার ছিলেন ইসমাইল। পরে এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় একটি চীনা কোম্পানির অধীনে কাজ শুরু করেন তিনি। কাজ পাওয়ার পর সংসারের দৈনন্দিন অভাব কিছুটা মিটলেও বিদেশে যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় পাইপলাইনের গভীর গর্তে কাজ করছিলেন ইসমাইল। এ সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়লে তিনি চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছায়। ইসমাইলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। 

নিহতের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, ‌‘প্রতিদিন সকালে ওনার সঙ্গে কথা হতো। বৃহস্পতিবার সকালেও কথা হয়েছে। বলেছিলেন, দুপুরে আবার ফোন দেবেন। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ফোন না আসায় আমি ওনার সহকর্মীদের ফোন করি। বিকেল ৫টার দিকে তারা জানান, ইসমাইল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ওখানকার লোকজন বলছে লাশ দেশে আনতে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হবে। অভাবের সংসারে এত টাকা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমি সরকারের কাছে আমার স্বামীর লাশ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাই।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ আজিজ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগোযোগ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’ 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআই
ট্যাগ: বরগুনা
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!