দুদকের অভিযানের পর রাস্তায় দুই শতাধিক শিক্ষকের ফাইল, তদন্তে পুলিশ
রংপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের দুই শতাধিক ফাইল চারটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে অফিসের পেছনের নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। টহল পুলিশের সন্দেহের মুখে এক ব্যক্তি বস্তাগুলো ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়।
ফাইলগুলো কীভাবে কার্যালয়ের বাইরে গেল, কে বা কারা সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছিল এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনিয়মের অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানা যায়। এ সময় দুদক কার্যালয় থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল জব্দ করে। পাশাপাশি আরও কিছু ফাইল তলব করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে না বলে দুদককে জানান।
.png)
এর কয়েক দিন পর কার্যালয়ের পেছনের নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া এলাকায় চারটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের ফাইল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, অনিয়মের তথ্য আড়াল করতে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তবে ফাইলগুলো কী উদ্দেশ্যে সেখানে নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন হোসেন জানান, এক ব্যক্তি চারটি প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় টহল পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ তাকে থামতে বললে তিনি বস্তাগুলো ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে বস্তাগুলো খুলে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের ফাইল পাওয়া যায়। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালককে জানানো হয়েছে।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মতলুবর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া ফাইলগুলো জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নয়। এগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের ফাইল।
তিনি বলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয় একই ভবনের দোতলায় অবস্থিত। ভবনের নিচতলায় আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের একটি গোডাউন রয়েছে। ওই গোডাউনের জানালা ভেঙে কেউ ফাইলগুলো বের করে নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ বলেন, ফাইলগুলো কীভাবে অফিসের বাইরে গিয়ে রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া ফাইলের সঙ্গে দুদকের অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এসব ফাইল হারিয়ে গেলেও শিক্ষকদের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট তথ্য অনলাইনে এবং স্ব স্ব কলেজে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি অফিসের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফাইলগুলোতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, কীভাবে সেগুলো কার্যালয় থেকে বের হলো এবং কার নির্দেশে বা কী উদ্দেশ্যে সেগুলো সরানো হয়েছিল, তদন্ত শেষে তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।