চকরিয়ায় যুবদল নেতা জিসান হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তার, নোহা উদ্ধার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যুবদল নেতা মো. জিসানকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবদুল আজিজ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু ড্রাইভার (৪৫) ও জিসাত মিয়া ওরফে শওকত ড্রাইভার (২৯)। আনোয়ার হোসেন চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী এলাকার আবু বক্করের ছেলে। জিসাত মিয়া ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট ছগিরশাহকাটা এলাকার বাহাদুর আলমের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার মধ্যে কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকায় ছাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সাদা রঙের একটি নোহা মাইক্রোবাসে করে জিসানকে তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে জানতে পারে চকরিয়া থানা পুলিশ। পরে তাঁকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। জিসানের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, তাঁকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ সেখানে বিভিন্ন তলায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। তবে সেখানে জিসানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছ থেকে চকরিয়া থানায় খবর আসে, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্বজনরা সেটি জিসানের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় জিসানের ভাই কাইচার হামিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় রেজিয়া সুলতানা, নাজিম উদ্দিন, বেগম নাজিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মিনহাজ উদ্দিন ও একে তারেকসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু ড্রাইভারকে তাঁর নিজ বাড়ি লোটনী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তথ্য দেন। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তাঁর দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে জিসাত মিয়া ওরফে শওকত ড্রাইভারকে রিংভং এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিলভার রঙের একটি নোহা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি রেজিয়া সুলতানার সঙ্গে জিসানের সম্পর্ক ছিল। ব্যবসার জন্য রেজিয়া তাঁকে টাকা দিয়েছিলেন। ওই টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, ওই বিরোধের জেরে রেজিয়া সুলতানার ভাই বিদেশে অবস্থানরত মিজানের সঙ্গে জিসানের ফোনে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে রেজিয়াসহ বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন আসামি জিসানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি আরও বলেন, জিসানকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনকে। পরে তাঁরা মালুমঘাট এলাকার একটি অপহরণকারী ও খুনি চক্রকে ভাড়া করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকা থেকে জিসানকে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁকে গুরুতর জখম করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ খুটাখালীর মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ছবির ক্যাপশন: চকরিয়ায় জিসান হত্যা মামলায় উদ্ধার করা নোহা মাইক্রোবাস।