চোখে আলো নেই, তবু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন মমিনের
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চোখে দেখেননি পৃথিবীর রং, চেনেননি আলোর সৌন্দর্য। তবে দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কাটাশকোল গ্রামের আব্দুল মমিন।
প্রায় ১০ বছর ধরে গ্রামের একটি ছোট দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। দোকানে মোবাইল রিচার্জ, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুবিধা দেন। এ আয় দিয়েই নিজের পরিবার চালানোর পাশাপাশি সন্তান ও বৃদ্ধ বাবার দেখভালের চেষ্টা করছেন।
তবে দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে তার জীবনযাপন। ছয় সদস্যের পরিবারের খরচ মেটাতে দোকানের আয় যথেষ্ট নয়। এর মধ্যে তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ সেবা নেওয়ার পর টাকা না দিয়েই চলে যান বলে অভিযোগ করেন মমিন। দিনের শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে তখন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাকে।
মমিনের বাবা বৃদ্ধ এবং পেশায় কৃষক। তার আট বছর বয়সী একমাত্র ছেলে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। সীমিত আয় ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তিনি।
সংসারের টানাপোড়েন থাকলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন মমিন। তার ইচ্ছা, দোকানটি সংস্কার করে সেখানে নতুন পণ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলবেন। ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে আয় কিছুটা বাড়াতে পারলে পরিবারের আর্থিক সংকট কমবে বলে আশা তার।
বর্তমানে দোকানটির অবস্থা জরাজীর্ণ। অর্থের অভাবে সেটি সংস্কার কিংবা নতুন মালামাল তোলার সামর্থ্য নেই মমিনের। তাই নিজের শ্রমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকায় বারবার বাধার মুখে পড়ছেন তিনি।
জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করেন মমিন। আজান শুনলে দোকান বন্ধ করে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করেন। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিদিনই দোকানে বসেন তিনি।
আব্দুল মমিন বলেন, কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পরিশ্রমে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চান তিনি। দোকানটি সংস্কার করে ব্যবসা কিছুটা বড় করতে পারলে সংসারের অভাব দূর হবে এবং সন্তানের পড়াশোনাও ভালোভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা তার।
স্থানীয় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি-বেসরকারি সহায়তার মাধ্যমে মমিনের দোকানটি সংস্কার ও ব্যবসার পুঁজি জোগানের ব্যবস্থা করা গেলে তার স্বাবলম্বী হওয়ার পথটি আরও সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে তার পরিবারের আর্থিক সংকটও কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।