মোনাজাতরত অবস্থায় নারীর মৃত্যু, ভাতিজাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনার পর আদালত বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিরোধের একপর্যায়ে তাঁর দেবরের ছেলেরা তাঁকে মারধর করেন। পরে বাড়ির পাশের একটি মসজিদের সামনে মোনাজাত করার সময় অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে মারধরের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী দক্ষিণপাড়া হাজীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আদালত বেগম ওই এলাকার রেজ্জাক মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় রেজ্জাক মিয়া ও তাঁর দুই ভাই আব্দুল খালেক এবং আব্দুর রশীদের মধ্যে ৯ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পারিবারিক বণ্টন অনুযায়ী, তিন ভাইয়ের প্রত্যেকের ৩ শতাংশ করে জমি পাওয়ার কথা। তবে জমির দখল ও বণ্টন নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের অবসান হয়নি।
এ বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। পুলিশ চলে যাওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আদালত বেগমের সঙ্গে তাঁর দেবরের ছেলে শামসুল আমিন, সাইফুল মিয়াসহ কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
পরিবারের দাবি, হাতাহাতির পর আদালত বেগম দৌড়ে বাড়ির পাশের একটি মসজিদের সামনে যান। সেখানে মোনাজাত করে আল্লাহর কাছে বিচার প্রার্থনা করার কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের ছেলে শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁদের চাচাতো ভাই শামসুল আমিন ও সাইফুল মিয়াদের পরিবারের সঙ্গে ৯ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ চলে যাওয়ার পর তাঁর মাকে চাচাতো ভাইয়েরা মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে তিনি মায়ের মৃত্যুর কথা জানতে পারেন।
অভিযুক্ত শামসুল আমিন ও সাইফুল মিয়ার বক্তব্য জানতে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে আদালত বেগমের সঙ্গে তাঁর দেবরের ছেলেদের বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ওসি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত বেগমের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।