ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

আখাউড়া-কসবা সড়কে উন্নয়ন কাজের ধীরগতিতে ভোগান্তি চরমে

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৩৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬
আখাউড়া-কসবা সড়কে উন্নয়ন কাজের ধীরগতিতে ভোগান্তি চরমে
আখাউড়া-কসবা সড়কে উন্নয়ন কাজের ধীরগতি হওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি চরমে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-কসবা আঞ্চলিক সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হওয়ায় উন্নয়ন ও কার্পেটিংয়ের জন্য ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের ধীরগতি থাকায় নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ। এ অবস্থার ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। নিত্যদিন দুর্ভোগ নিয়ে যাত্রী ও পথচারীরা চলাচল করছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রত সড়কটির কাজ শেষ করার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া-কসবা সড়কের  ১১ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন ও কার্পেটিংয়ের জন্য ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনে শুরু হওয়া এ কাজ ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে কাজের ধীরগতি থাকায়  সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ থাকায় দুই উপজেলার হাজারও মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,  আখাউড়া-কসবা সড়কে বিভিন্ন জায়গায় স্থানে স্থানে পিচ, খোয়া,ইট উঠে স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে।  কোথাও কোথাও  ওইসব গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি। চালক এবং যাত্রী মিলে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করছেন। সড়কের বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি নিয়ে যাতায়ত করছে। বেহাল এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভাঙাচোরা সড়ক হওয়ার কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।  
অন্যদিকে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বাড়ছে মেরামত ব্যয়, পাশাপাশি যাত্রীদের যাতায়াতেও তৈরি হচ্ছে নানা ভোগান্তি।

স্থানীয়রা জানায়, আখাউড়-কসবা এই দুই উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য এটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন এই দুই উপজেলার  স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, অসংখ্য পথচারী নিত্যদিন চলাচল করছে। সেইসাথে চলছে শত শত সিএনজি অটো রিকসা, ট্রাক, ট্রাক্টর, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা এবং উন্নয়নকাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, সড়কের যেসব স্থানে কাজ চলছে, সেখানেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। কোথাও কোথাও নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সিএনজি চালক আলম মিয়া বলেন, আখাউড়া-কসবা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গাড়ি চালাতে হয়। সড়কের বেহাল দশা থাকায় মেরামত করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের গতি না থাকায় সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে যে অবস্থা হয়ে আছে তাতে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। সামান্য বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। গর্তে গাড়ি পড়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। মেরামত করতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। যাত্রীদের নিয়েও ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হলে আমাদের কষ্ট অনেকটা কমবে।

যাত্রী জসিম উদ্দিন বলেন, কসবা- আখাউড়র এই দুই উপজেলার জন্য এই সড়কটি খুবই গুরুত্ব একটি সড়ক। বেহাল সড়কটির সংস্কার কাজ যখন শুরু হয় তখন খুবই ভালো লেগে ছিল। কিন্তু কাজের গতি যে এই হবে তা কখনো কল্পনা করেনি। বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল কষ্টের যেন শেষ নেই। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও আবার পিচ উঠে গেছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে থাকায় বোঝা যায় না কতটা গভীর। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করে আমাদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

সিএনজি অটোরিক্সা চালক রনি মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চালাতে খুবই ভয় করে। বেহাল দশার কারণে প্রায় সময়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যায়। তখন গাড়ি থেকে যাত্রীকে নেমে গাড়ি ঠেলা দিতে হয়। এক দিন গাড়ি চালালে পরের দিন চালানো খুবই কষ্ট হয়ে যায়। সারা শরীর ব্যাথা করে। সড়টি সংস্কার কাজ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তালবাহানা শুরু করে দিয়েছে। তাদের কারণে এই সড়কে চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রোবভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় সড়কটির ১১ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন ও কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল হক কাজটি পেয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি খায়রুল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।’

আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘কাজের ধীরগতির বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!