ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

স্কুলে ডেকে নিয়ে অভিভাবককে পেটানোর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে,

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৭, ১১ অক্টোবর ২০২৬
স্কুলে ডেকে নিয়ে অভিভাবককে পেটানোর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে,
,ইউএনও-থানায় অভিযোগ

ছোট বোনের অভিভাবক হয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শান্ত নুর নামে এক যুবক।

 গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেলের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধর, কানে থাপ্পড় দিয়ে রক্তাক্ত করা, অণ্ডকোষে লাথি মারা ও প্রায় ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের মুঠোফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 এ ঘটনায় রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), শ্রীপুর মডেল থানা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কারিমা আক্তারকে অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে যেতে ফোন করা হয়। পরে বড় ভাই শান্ত নুর বোনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে গিয়ে বোনকে ডাকার কারণ জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক রাসেলের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন শান্ত নুর।

ভুক্তভোগীর দাবি, মারধরের সময় তাঁর ডান কানে জোরে থাপ্পড় মারা হলে রক্তপাত হয়। এতে তিনি কানে কম শুনছেন। এ ছাড়া চোখে ঘুষি, অণ্ডকোষে লাথি এবং হাতে থাকা স্মার্টফোন ভাঙচুর করা হয়। প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শান্ত নুর বলেন, তাঁর বাবা চট্টগ্রামে সরকারি চাকরি করেন এবং মা অসুস্থ। এ কারণে বড় ভাই হিসেবে বোনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডেকে তাঁকেসহ সঙ্গে থাকা আরেকজনকে মারধর করা হয় বলেও দাবি করেন শান্ত নুর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়টির একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক রাসেলের আচরণ রূঢ়। তাঁদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের অসম্মানজনক ভাষায় সম্বোধন করেন। তাঁর কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করার আশঙ্কায় থাকেন শিক্ষার্থীরা। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো অভিভাবক গেলে তাঁর সঙ্গে শিক্ষকের এমন আচরণ কাম্য নয়। শিক্ষকদের আচরণ আরও মার্জিত হওয়া উচিত।
অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে টেপিরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিএম জহিরুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের।অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছেন। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। 
শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগীর ছোট বোন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় থেকে ফোন করে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষককে ফোন দিয়েছিলাম। একজন অভিভাবককে মারধর করার কোনো সুযোগ নেই।’
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর রোববার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম ভূঞা বলেন, বিদ্যালয়ে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!