ভৈরবে ইয়াবা নিয়ে বিরোধ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জেরে সোহেল মিয়া ও ফয়সাল মিয়া নামে দুই মাদক কারবারিকে শিকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে হাকিম মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মানিক মিয়া লোকজন নিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন হাকিম মিয়া।বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীনগর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে সোহেল ও ফয়সালের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে হাকিম মিয়ার টাকা-পয়সা ও ইয়াবা সরবরাহ নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকালে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সোহেলকে আটকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাঁর ভাই ফয়সাল সেখানে গেলে তাঁকেও বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাকিম মিয়ার দাবি, টেকনাফ থেকে পাঠানো ৫ হাজার পিস ইয়াবা কার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। এ সময় সোহেল তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি লাঠি দিয়ে সোহেলকে মারধর করেন বলেও জানান।
হাকিম মিয়া বলেন, সোহেল প্রথমে আমার মা-বাবাকে নিয়ে গালিগালাজ করে। পরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবাগুলো কার কাছে দিয়েছে। এ বিষয়ে টেকনাফের এক ব্যক্তিকে ফোন করলে তিনি ফয়সালের কাছে ৫ হাজার পিস ইয়াবা পাঠানোর কথা বলেন। এরপর আমি সোহেলকে আটক করিলে পরে তার ভাই ফয়সালসহ আরও কয়েকজন আসলে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহেল আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে লোকজনের মাধ্যমে তাদের দুজনকে আটক করে বেধে রাখি। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে, এমনকি ওয়ারেন্টও আছে বলে আমি জানি।
পরে বুলবুল থানার ওসিকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ আসার আগেই মানিক মেম্বার লোকজন নিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পুলিশ এসে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইয়াবাগুলো কার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানা যেত।
স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার মিয়া বলেন, তাদের মধ্যে প্রথমে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ ছিল। ৫ হাজার ইয়াবা হাকিমকে দেওয়ার কথা থাকলেও তা ওসমান নামে অন্য একজনের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সোহেল হাকিমকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে তাঁর দাবি। পরে হাকিম সোহেল ও ফয়সালকে বেঁধে রাখেন। বুলবুল থানায় খবর দিলে পুলিশ আসার আগেই মানিক মেম্বার লোকজন নিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, সোহেলের পরিবারের লোকজন তার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন। পরে তিনি হাকিমের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বেঁধে রাখার কারণ জানতে চান। হাকিম তখন টাকা-পয়সার লেনদেনের কথা বলেন। এরপর কয়েকজনকে নিয়ে বসে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করার কথা বলে তিনি সোহেল ও ফয়সালকে ছাড়িয়ে আনেন।
মানিক মিয়া আরও বলেন, ইয়াবার বিষয়ে তারা কিছু বলেছে কি না, তা আমি জানি না। সোহেলের পরিবারের লোকজন আমার কাছে আসায় আমি ঘটনাস্থলে যাই। হাকিমের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। আগে কী হয়েছে বা ইয়াবা নিয়ে কোনো ঘটনা আছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে সোহেল ও ফয়সাল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বলে তিনিও মন্তব্য করেন।
ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বুলবুল মিয়া ৫ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে আটকের বিষয়টি থানার ওসিকে জানিয়েছিলেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেল ও ফয়সালকে পাননি। তাঁর ভাষ্য, সেখানে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হয়েছিল এবং পরে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার কথা জানানো হয়। হাকিম তাঁর কাছে ৫ হাজার পিস ইয়াবার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় ৫ হাজার ইয়াবা সরবরাহের অভিযোগ, দুই ব্যক্তিকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা এবং পুলিশের পৌঁছানোর আগে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সোহেল ও ফয়সালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল কি না এবং এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধুম্রজাল।