ঢাকা,  বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সিরাজগঞ্জে অতিমাত্রায় সার, কীটনাশক ব্যবহার হুমকিতে মাটির উর্বরতা

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী
প্রকাশিত: ১২:০৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজগঞ্জে অতিমাত্রায় সার, কীটনাশক ব্যবহার  হুমকিতে মাটির উর্বরতা
সিরাজগঞ্জে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষক। ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জ একটি কৃষি প্রধান জেলা। এ জেলায়  উৎপাদিত হয় ধান, সরিষা, ভুট্টা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। অধিক ফলনের আশায় ফসলের রোগ বালাই দমনে কৃষকদের অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। 


উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা নিয়ে। কৃষকদের অভিযোগ, আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় কিংবা ঘন ঘন বালাইনাশক প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করলে মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব, পরিবেশের ভারসাম্য এবং কৃষির স্বাভাবিক উৎপাদনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি কীটনাশকের কার্যকারিতা কমে গেলে কৃষকদের আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে তা প্রয়োগ করতে হয়। 


এছাড়া কাটনাশক জলাশয় গুািলতে মিশে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রানীর ক্ষতির আশংকা রয়েছে । তাদের মতে অতি মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীট নাশক ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে কৃষকদের অবগত করার পাশাপাশি নিরাপদ কৃষি চর্চা নিশ্চিত করতে হবে । 


উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ এলাকার কৃষক আলহাজ মোঃ হাবিউজ্জামান বলেন, কৃষকদের অজানার কারণে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে। ফলে জমির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন জমিতে একাধিকবার কীটনাশক ব্যবহারের কাজ হচ্ছেনা। গত বছর মাটির অবস্থা ঠিক রাখতে বিঘাপ্রতি  প্রায় দুই মণ সার দিয়েছি। এবারও সমপরিমান সার দিয়ে আশানুরুপ ফলন হবে বলে মনে হচ্ছে না ।  


সদর চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে একবার কীটনাশক দিলেই কাজ হতো, এখন একাধিকবার  দিলেও তেমন কাজ হচ্ছে না । মাজরা ও ফুতি পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ওয়ানস্টপ, নিডসট, ভিরতাকোসহ বিভিন্ন বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতেআমাদের  খরচ বাড়ছে। জমিতে আগের মতো সাপ, ব্যাঙ, পাখি ও অন্যান্য কৃষি উপকারী প্রাণীও চোখে পড়ে না। কীটনাশকের ক্ষতির বিষয়টি জানার পরও ফসল  রক্ষার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। 


শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই জমিতে  সারের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে। আবার কীটনাশক ব্যবহার না করলেও উপায় নেই। বর্তমানে ফসলে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। কীটনাশক না দিলে ফসল  ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়।


শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন  বলেন, জমিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে । এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমান জৈব সার জমিতে দিতে হবে ।  কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য, উপকারী জীবাণু ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিরাপদ ও সঠিক নিয়মে বালাইনাশক ব্যবহার করা জরুরি। এবিষয়ে কৃষকদের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে । 


সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন কৃষি বিভাগ কৃষকের মাঝে সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত সারের প্রয়োগ কমানোর জন্য মাঠে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।  এ ক্ষেত্রে খামারী এ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষক তার জমিতে বিঘা প্রতি ফসল অনুযায়ী কি পরিমান রাসায়নিক এবং জৈব সার দিতে হবে তার সঠিক তথ্য পাচ্ছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। 


এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা বলেন, কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য শতকরা ৫ ভাগ জৈব সার জমিতে থাকতে  হবে । সামর্থ থাকলে ভার্মি কম্পোজজষাট দিতে হবে । রাসায়নিক ও   জৈব সার সমন্বয় করে দিতে হবে । অনুমদিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে । তাহলে মাটির উর্বরতা ঠিক থাকবে । 


সচেতন মহল জানান, সিরাজগঞ্জে জৈবসারের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সার উৎপাদনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!