ঢাকা,  বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

জবি শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন পেছাল

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
জবি শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন পেছাল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষা ও তার প্রেমিক মো. মাহির রহমানের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। আইনজীবীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দেশের বাইরে থাকার কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হয়।

বেঞ্চ সহকারী আরও জানান, আদালত শেষবারের মতো সময় দিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

মামলার তিন আসামিই কারাগারে রয়েছেন। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে দুই দফায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানো হয়েছিল।

যেভাবে হত্যা করা হয় জোবায়েদকে

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় এক ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ হোসেন। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রীর বাসার নিচতলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয় উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন জোবায়েদ। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান।

সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মেসেঞ্জারে জানায়, জোবায়েদ স্যার খুন হয়েছেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাসান মুঠোফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে খবর দেন।

এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান তারা। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!