ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বাঁশের সাঁকো নির্মাণে দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমালেন যুবদল নেতা

শালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বাঁশের সাঁকো নির্মাণে দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমালেন যুবদল নেতা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একটি বাঁশের সাঁকো। ছোট এই উদ্যোগেই ফরিদপুরের সালথার দুটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। কৃষকেরা এখন তুলনামূলক সহজে খাল পার করে ফসল নিতে পারছেন। স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলেও। স্থানীয় মানুষের এমন উপকারে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে প্রশংসা পাচ্ছেন সালথা উপজেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ও তুগোলদিয়া গ্রামের সংযোগস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে খালের ওপর বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সাঁকোটি পেয়ে খুশি এলাকাবাসী। তাদের মতে, কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, সব ক্ষেত্রেই এটি কাজে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া খুব একটা লাগেনি। রাস্তাঘাটের অভাবে বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমেও সরু হালট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কৃষকদের খালের পানির মধ্য দিয়ে কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল পারাপার করতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে।

তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাস্তা ও সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ উদ্যোগে এলাকার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

স্থানীয় কৃষক পলাশ মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাদাপানির মধ্য দিয়ে মাথায় করে উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করতে হতো। খাল পার হতে গিয়ে অনেক সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এখন সাঁকো নির্মাণ হওয়ায় সেই কষ্ট অনেকটাই কমেছে। কৃষকদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরাও এর সুবিধা পাচ্ছে। আগে বিকল্প পথে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি কমেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে বর্ষায় খাল ও কাদাপানির কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষকদের ফসল বাজারে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও বাধা তৈরি হয়। বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ফলে আপাতত এ দুর্ভোগ থেকে কিছুটা মুক্তি মিলেছে।

নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে মো. এনায়েত হোসেন বলেন, রাজনীতি তার কাছে শুধু পদ-পদবি কিংবা নেতৃত্বের বিষয় নয়, মানুষের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যম। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এতে কৃষকদের কষ্ট কমলে, শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারলে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হলে তার প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

তিনি আরও বলেন, বাঁশের সাঁকো স্থায়ী সমাধান নয়। এখানে একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু নির্মাণ জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। মানুষের পাশে থাকতে চান বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/শালথা/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!