ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

তজুমদ্দিনে এইচএসসি-আলিমের ফলাফলে ভরাডুবি, জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
তজুমদ্দিনে এইচএসসি-আলিমের ফলাফলে ভরাডুবি, জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন
পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী। ছবি: এআই

২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে ফলাফলের চিত্র বেশ হতাশাজনক। উপজেলার তিনটি কলেজ ও আটটি মাদরাসার মোট ৬৭২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২০৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৬৭ জন। সে হিসাবে সম্মিলিত পাসের হার ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। তিনি শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজের শিক্ষার্থী।

কলেজগুলোর ফলাফল আরও উদ্বেগজনক। তিনটি কলেজে মোট ৪৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১১২ জন। পাসের হার ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।

তজুমদ্দিন সরকারি কলেজে ১৭২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩০ জন। পাসের হার ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ কলেজের মানবিক বিভাগে ১৪০ জনের মধ্যে ২৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২৮ জনের মধ্যে পাঁচজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চার পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি।

শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজে ১৮৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪০ জন। পাসের হার ২১ দশমিক ২৮ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ১৪১ জনের মধ্যে ২৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ৪০ জনের মধ্যে ১১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সাতজনের মধ্যে পাঁচজন পাস করেছেন। এ কলেজ থেকেই একমাত্র শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

তজুমদ্দিন মহিলা কলেজে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। এ কলেজে ১০৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৮৩ জনের মধ্যে ২৮ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছেন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একজন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

অন্যদিকে, উপজেলার আটটি মাদরাসায় মোট ২০৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯৩ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছেন ১১৬ জন। এসব মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

মাদরাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬২ দশমিক ০৭ শতাংশ পাসের হার চাপড়ী আলিম মাদরাসায়। এ প্রতিষ্ঠানে ২৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৮ জন। দেবীপুর ফাজিল মাদরাসায় ২৯ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৭২ শতাংশ। চাঁদপুর মহিলা মাদরাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৪ জন পাস করে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। চাঁদপুর কামিল মাদরাসায় ৫৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৭ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এ ছাড়া মধ্য আড়ালিয়া আলিম মাদরাসায় ২২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে আটজন, চাচড়া ফাজিল মাদরাসায় ১৭ জনের মধ্যে পাঁচজন, গোলকপুর আলিম মাদরাসায় ১৩ জনের মধ্যে তিনজন এবং শম্ভুপুর আলিম মাদরাসায় ১৭ জনের মধ্যে তিনজন পাস করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৩৬, ২৯ দশমিক ৪১, ২৩ দশমিক ০৮ ও ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মাদরাসাগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার শম্ভুপুর আলিম মাদরাসায়।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জাতীয় গড়ের তুলনায় তজুমদ্দিনের তিন কলেজের পাসের হার ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং আট মাদরাসার পাসের হার ৭ দশমিক ৬২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। কলেজ ও মাদরাসা মিলিয়ে উপজেলার সম্মিলিত পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ২১ দশমিক ৬১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

এমন ফলাফলে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষক সংকট ও নিয়মিত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে ফলাফলের পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!