ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ফলাফল বিপর্যয়ে আখাউড়ায় মিষ্টি বিক্রিতে ভাটা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ফলাফল বিপর্যয়ে আখাউড়ায় মিষ্টি বিক্রিতে ভাটা
ফলাফল বিপর্যয়ে আখাউড়ায় মিষ্টি বিক্রিতে ভাটা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে মিষ্টি পাঠানো, শুভেচ্ছা বিনিময় আর আনন্দ-উৎসবের প্রচলন রয়েছে। এ সময় মিষ্টির দোকানগুলোতেও বাড়ে ক্রেতাদের ভিড়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় মিষ্টি কেনার আগ্রহ কমেছে, প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও।

স্থানীয় মিষ্টি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মিষ্টি বিক্রি অনেক কম। ফল প্রকাশের পর দোকানগুলোতে সাধারণত ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও এবার তেমন ব্যস্ততা নেই। অনেক বিক্রেতাকেই অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।

আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকান ঘুরে দেখা যায়, সন্দেশ, রসমালাই, গোলাপজাম, প্যাড়া সন্দেশ, আনারকলি, কালোজাম, বালুশাই, চমচম, কাঁচাগোল্লা ও কাটারিভোগসহ নানা ধরনের মিষ্টি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

দোকানিরা জানান, পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের যাতায়াত বাড়ে। তাদের আপ্যায়নে মিষ্টি কেনার চাহিদাও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় পরিবারগুলোতে আনন্দ-উৎসব কম। এর প্রভাব পড়েছে মিষ্টির বাজারে।

সড়ক বাজার এলাকার মিষ্টি বিক্রেতা সমীর ঘোষ বলেন, পরীক্ষার ফল প্রকাশ মানেই আগে মিষ্টি কেনার ধুম পড়ে যেত। ফল প্রকাশের আগের দিন থেকেই অতিরিক্ত মিষ্টি তৈরি করতে হতো। কিন্তু এবার ফল প্রকাশের পরও ক্রেতাদের তেমন সাড়া নেই। অন্য দিনের মতোই বেচাকেনা চলছে।

আখাউড়ার অভিভাবক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার তার ছেলে ও মেয়ে দুজনই এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছেলে পাস করলেও মেয়ের ফল খারাপ হয়েছে। এতে পরিবারের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারপরও ছেলের সাফল্যের কথা ভেবে মিষ্টি কিনেছেন।

এবারের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে ৪৪১ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৩৯ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক ০২ শতাংশ। জাহানারা হক মহিলা কলেজ থেকে ৫১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩০ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। ছতুরা চাঁদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র আটজন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় অনেক পরিবারে উদ্‌যাপনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। ফলে ফল প্রকাশকে ঘিরে মিষ্টির দোকানিদের বাড়তি বিক্রির যে প্রত্যাশা ছিল, এবার তা পূরণ হচ্ছে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!