ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ঝালকাঠিতে নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শহিদুল

চাঁদাবাজির মামলা করে
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫২, ১ নভেম্বর ২০২৬
ঝালকাঠিতে নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শহিদুল
মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম।

ঝালকাঠিতে ক্রয়কৃত জমিতে ঘর তুলতে গেলে চাঁদা দাবি করে স্থানীয় একটি চক্র। এবিষয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর প্রাণনাশের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জমির মালিক মো. শহিদুল ইসলাম। অভিযুক্তদের হুমকিতে বাড়িতে থাকতে পারছেন না তিনি। জীবনহানির আশঙ্কায় বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

শহিদুল ইসলাম ঝালকাঠি সদর উপজেলার মানপাশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। 


তাঁর অভিযোগ, জমিতে নির্মাণকাজ করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২৮অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে জমিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।


হুমকি দাতারা হলো, ঝালকাঠি শহরের বিকনা এলাকার সবুর ফকিরের ছেলে মো. শেখায়েত ফকির (৪৮), মো. মোশারফ ফকির (৫০), মো. মোশারফ ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ ফকির (২৮), মো. রিফাত ফকির (২৫), মো. বেলায়েত ফকিরের ছেলে মো. রিয়াজুল ইসলাম সাদ্দাম (৩০), শেখায়েত ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ রহিম ফকির (২২), ও মৃত গহুর ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ বেলায়েত ফকির (৫৫) সহ অজ্ঞাত নামা আরো অনেকে। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৭অক্টোবর ঝালকাঠির আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) দমন ট্রাইব্যুনালে একটি চাঁদাবাজির মামলা (নম্বর ৪৬) দায়ের করেন। 


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলামের বড় বোন আমেরিকা প্রবাসী খাদিজা বেগম ও তাঁর ছোট বোন জামাই দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ২০২২সালের ২৩ফেব্রুয়ারি কবির ফকিরের ছেলে হৃদয়ের কাছ থেকে ঝালকাঠি পৌর এলাকার ১০৭নম্বর জে.এল.ভুক্ত বিকনা মৌজায় ৯দশমিক ৫০শতাংশ জমি ৫০লাখ টাকায় ক্রয় করেন। জমিটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয়। ক্রয়ের পর থেকে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর ও পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের পাশাপাশি সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। প্রবাসে অবস্থানের কারণে জমির সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে শহিদুল ইসলামকে আমমোক্তারনামা প্রদান করেন তাঁরা।


শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ওই জমিতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা বাঁধা দেয় এবং তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রথমে ভয়ে তিনি সঙ্গে থাকা ২০হাজার টাকা তাদের দিয়ে দেন। ইতিপূর্বে জমিতে রাখা ইট, রড, সিমেন্ট ও স্যানিটারি সামগ্রীও অভিযুক্তরা নিয়ে যান বলে তিনি অভিযোগ করেন। এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৩অক্টোবর শহিদুল ইসলাম জমিতে গেলে অভিযুক্তরা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন এবং তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি ২৭অক্টোবর আদালতে মামলা দায়ের করেন।


মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন শহিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, গত ২৮অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে জমিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “চাঁদার টাকা না দিয়ে জমিতে নির্মাণকাজ করতে গেলে দাফনের কাফন পরে আসবি। তোকে টুকরো টুকরো করে পাশের সৈয়দ মুন্সির মাছের ঘেরে পুঁতে রাখা হবে।” এ ধরনের হুমকির পর থেকেই তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।


শহিদুল ইসলামের দাবি, জমির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, ঝালকাঠি থানা ও আইনজীবী সমিতিতে আলোচনা ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টরা তাঁর পক্ষে মতামত দেন বলে তিনি জানান। তবে এরপরও অভিযুক্তরা চাঁদা দাবিতে অনড় রয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।


বর্তমানে প্রাণনাশের আশঙ্কায় নিজ বাড়িতে থাকতে পারছেন না শহিদুল ইসলাম। তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ঝালকাঠি
ট্যাগ: ঝালকাঠি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!