ঢাকা,  শুক্রবার   ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জীবননগর সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:০৬, ৭ নভেম্বর ২০২৬
জীবননগর সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশি মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম মনির (২৬) নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। পরে তাকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৫ চোরাকারবারি পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলাম ওরফে নেংটের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে মনিরুল ইসলামসহ ৬-৭ জন ডিঙি নৌকায় করে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যান। এ সময় ভারতের টুঙ্গি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে মনিরুল ইসলামের ডান পায়ে গুলি লাগে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুল ইসলামকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় মনিরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা পালিয়ে আসা ব্যক্তিরা হলেন—কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।

স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ টুঙ্গী ক্যাম্পের টহল দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে বিজিবির মেদিনীপুর ক্যাম্পের টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাল্টা ফায়ার করে।

হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে তিনি জানতে পারেন, মনিরুল ইসলামকে বিএসএফ সদস্যরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছেন। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মেজর তোয়াসিন হাবিব হাসান জানান, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) এর মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মেইন পিলার ৬৩/১-এস-এর কাছে শূন্য লাইন থেকে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার সন্নিকটে গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় মেদিনীপুর ক্যাম্পের বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাল্টা ফায়ার করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/চুয়াডাঙ্গা/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!