ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সরকারি হালট দখল করে দেয়াল নির্মাণ, অবরুদ্ধ সাংবাদিকের পরিবার

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৭ নভেম্বর ২০২৬
সরকারি হালট দখল করে দেয়াল নির্মাণ, অবরুদ্ধ সাংবাদিকের পরিবার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডভুক্ত হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। এতে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে একটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্তরা হলেন দুমকি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সিকদার এবং উপজেলা বিএনপির ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক আবু সালেহ খোকন।

উপজেলার ২ নম্বর লেবুখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী কামাল সিকদার পেশায় সাংবাদিক। তার পরিবারের অভিযোগ, সরকারি রেকর্ডে হালট হিসেবে চিহ্নিত জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করায় তাদের বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের একটি সরকারি হালট দীর্ঘদিন ধরে কার্তিকপাশা ও আঠারগাছিয়া গ্রামের মানুষ চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। দক্ষিণ আঠারগাছিয়া বায়তুল হাসান জামে মসজিদের উত্তর পাশে অবস্থিত ওই হালটের প্রায় ২৯ শতক জমি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সিকদারের প্রভাবের কারণে তারা প্রতিকার চাইতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সাংবাদিক কামাল সিকদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি পটুয়াখালী শহরে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে দুমকি থানার এসআই শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে তিনিও সেখানে গিয়ে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি দেখতে পান।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আবদুল জব্বার সিকদার ও তার ভাই আবু সালেহ খোকন জায়গাটি সরকারি হালট বলে স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, এটি তাদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবরস্থান।

সরকারি জমিতে পাকা দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল জব্বার সিকদার বলেন, ‘এমন অনেক অনিয়ম হচ্ছে দেশে, এটা কোনো বিষয় না।’ এ সময় তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই ধরনের মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সরকারি হালটের জমিতে ব্যক্তিগত পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা ও অবস্থান নির্ধারণ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ নিশ্চিত করা জরুরি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!