ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ মাছের জাদুঘর বাংলাদেশে, দেখেছেন কি?

আবুল বাশার মিরাজ 
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ মাছের জাদুঘর বাংলাদেশে, দেখেছেন কি?
ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

বাকৃবির মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের পশ্চিম দিক দিয়ে গেলেই চোখে পড়বে দুইতলা ভবনের জাদুঘর। এটিই সংগ্রহ ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ মাছের জাদুঘর। এখানে আছে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জা ও মাছ সংরক্ষণের নয়নাভিরাম প্রকৃতির পরিবেশ। 

দোতলায় জাদুঘরটির মূল সংগ্রহশালা। নিচতলার সিঁড়ি বেয়ে ওঠতে ওঠতে প্রথমেই চোখে পড়বে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত মাছের তালিকা। সিঁড়ির নিচে আছে অনেক দিনের পুরনো বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি মাছ ধরার চাই, বাবুই পাখির বাসা, মাছ ধরার আরো কিছু যন্ত্রপাতি।

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

Advertisement

জাদুঘরটিতে চারটি গ্যালারি আছে। প্রতিটি মাছের চিত্রের একটি ক্যালেন্ডার সঙ্গে মাছের দৈর্ঘ্যের বিস্তর ও বৈজ্ঞানিক নাম রয়েছে। ক্যালেন্ডারটির নিচেই ফরমালিনের কাচের পাত্রে রয়েছে উপরের চিত্রে প্রদর্শিত মাছটি। ফলে শিক্ষাথীসহ দর্শনার্থীরা সহজেই মাছটি সর্ম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করতে পারবে। 

পূর্বপাশের ১ম গ্যালারিতে রয়েছে সিপ্রিনিফরমিস বর্গের ৮৭ প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে রয়েছে ৮১প্রজাতির মিঠাপানির মাছ। গ্যালারিতে মাছের মধ্যে রয়েছে কার্প, রুই, কাতলা, মৃগেল, মলা, ঢেলা, কালিবাউস,বউ, মহাশোল উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মাছ। এখানে জাপান থেকে আনা শতবর্ষী একটি কচ্ছপের কঙ্কালও রয়েছে। 

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

দ্বিতীয় গ্যালারিতে সিলুরিফরমিস বর্গের মাছের অবস্থান। যারা ক্যাটফিশ নামেও পরিচিত। এসব মাছে বিড়ালের গোঁফের মত বার্বেল থাকায় এরুপ নামকরণ করা হয়েছে। এখানে ১৩টি পরিবারের ৬১প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৫৩টি প্রজাতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এখানে বোয়াল, মাগুর, শিং, টেংরা, পাবদা, বাতাসি, আইর, বাঘাইর প্রভূতি উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মাছের দেখা মিলবে। 

অপর গ্যালারিতে পার্সিফরমিস বর্গের ২২টি পরিবারের ৫৪টি প্রজাতি রয়েছে। এখানে কই, চান্দা, বেলে, খলসে, ভেটকি, টাকি, শোলের মত মাছের দেখা মিলবে। প্রধান তিনটি বর্গ ছাড়াও বাংলাদেশে আরো দশটি বর্গ রয়েছে।

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

স্বাদু পানির শুশুক ও অন্যান্য মাছ নামক গ্যালারিতে রয়েছে ৫০টি প্রজাতির মাছ। এদের মধ্যে ইলিশ, চিতল, ফলি, কানপোনা, চাপিলা, কাকিলা, কাচকি,পটকা, বাইন মাছ সুপরিচিত। এছাড়া এখানে ২৮বছর বয়সের ১৯৯সেন্টিমিটার লম্বা একটি শুশুকের কঙ্কাল রয়েছে।

সর্বশেষ চতুর্থ গ্যালারিতে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিলুপ্ত মাছ ও অন্যান্য প্রাণির জীবাশ্মের সংগ্রহ। স্টারলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহায্যে যুক্তরাজ্য থেকে এই চমৎকার জীবাশ্মগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই গ্যালারিতে ৪০টি জীবাশ্ম ও কঙ্কাল রয়েছে।

জাদুঘরটি সপ্তাহে দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৮টা হতে ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এটা সবার জন্য ঊন্মক্ত এবং প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না।

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

খাওয়া-দাওয়া

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জব্বারের মোড়, রেল লাইন, কেআর মার্কেট, করিম ভবনে রয়েছে অনেক খাবার হোটেল। এসব হোটেল সবসময় আপনি মাছ, মাংস, ভর্তা ভাত, খিচুরি সব পাবেন স্বল্পমূল্যে। টিএসসিতে ও খেতে পারেন। এছাড়া ক্যাম্পাসের সঙ্গেই আশপাশে ফসিলের মোড়, রেশষ মোড়ে পাবেন অনেক হোটেলের দোকান। চাইলে বাড়ি ফেরার সময় ময়মনসিংহ শহর থেকে স্পেশাল মালাইকারি মিষ্টি নিয়ে আসতে পারেন। মালাইকারির জন্য মা-মনি সুইটস এবং কৃষ্ণা কেবিন বিখ্যাত।

যেভাবে আসবেন

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বেশ কয়েকটি বাস ছেড়ে যায় প্রতি ১৫-২০ মিনিট পরপর। সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। এনা গাড়িতে আসলে ভাড়া নেবে ২২০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য শ্যামলী বাংলা, আলম এশিয়া, ইসলাম ইত্যাদি গাড়িতে ভাড়া প্রায় ১২০ টাকা। তবে চেষ্টা করবেন এনা তে করে যেতে। এছাড়া আপনি ট্রেন এ করেও  যেতে পারেন। ময়মনসিংহ এসে মাসকান্দা বা ব্রিজ মোড় নামিয়ে দিবে। মাসকান্দা থেকে ক্যাম্পাসে আসতে অটোতে লাগবে সবোর্চ্চ ২০ টাকা করে। ব্রিজ মোড় থেকে অটোতে নিবে ১০ টাকা করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!