এমন দুঃসময়ে উষ্ণতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদ। প্রতি বছর পবিত্র মাহে রমজান মাসে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবছর সেই বাজেটের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হবে বেকার হয়ে পড়া দৈনিক বেতন ভিত্তিক কর্মচারীদের।
২৬ এপ্রিল এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি সভায় বাৎসরিক বাজেটের ৩০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষক সমিতি। এছাড়াও সবাই ব্যক্তিগতভাবেও আর্থিক সহযোগিতা করবেন তারা। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
.png)
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার দৈনিক বেতন ভিত্তিক এক কর্মচারী অফিস বন্ধ থাকলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিমাসের বেতন চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এই কর্মচারী বলেন, মার্চের ১৯ তারিখের পর থেকে ডিউটি নেই বেতনও নেই। যে টাকা পাই তা দিয়ে কি সংসার চলে? ১০ সদস্যের পরিবারের বোঝা আমার কাঁধে। বৃদ্ধ বাবার চায়ের দোকান এখন বন্ধ। কি হবে আমাদের, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? সুদে টাকা আনবো, না ধার করবো কিছুই জানি না। দুমুঠো ভাত খেয়ে কিভাবো পেট বাঁচাবো? সংসার কিভাবে চলবে? উপাচার্যের কাছে অনুরোধ অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারি আমাদের জন্য এরকম একটা ব্যবস্থা করেন।
ববি শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আরিফ হোসেন জানান, কর্মচারীরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারেরই অংশ। তাদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষক সমিতির ইফতার মাহফিলের বাৎসরিক বাজেটের টাকা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও তাদের সহযোগিতা করবো আমরা। প্রশাসনিকভাবেও যেন তাদের সহযোগিতা করা হয় সে জন্য উপাচার্য স্যারের কাছে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বেকার হওয়া এই কর্মচারীদের কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সে ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা চলছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যায়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন।