ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

দুই কিডনি নষ্ট, ডায়ালাইসিসে পণ্ড হলো বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩৩, ২ জুন ২০২১
দুই কিডনি নষ্ট, ডায়ালাইসিসে পণ্ড হলো বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন
সোহেল রানা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৩-১৪ সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী

২০১৬ যখন আমার জীবনে নেমে আসে অশনি সংকেত। ডাক্তার বললেন, তোমার দুইটা কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। এই একটি বাক্যে জীবনের সব চেষ্টা যেন বৃথা হয়ে গেল। স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হবো কিন্তু জীবনে চলে এলো ডায়ালাইসিস। এভাবেই ডেইলি বাংলাদেশকে বলছিলেন সোহেল রানা (২৫)। 

তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৩-১৪ সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। সপ্তাহে তিনদিন তাকে ডায়ালাইসিস করতে হয়। 

কিডনি ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তার শরীরের রক্ত পরিশোধন করা হয় এবং এর মাধ্যমেই তিনি বেঁচে আছেন। এতে মাসে তার খরচ হয় ৫০,০০০ টাকা।

Advertisement

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেলের পরিবারের সদস্য ৭ জন। কৃষিকাজ ও বিলে মাছ ধরে সংসার চালান তার বাবা। কিন্তু নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সোহেলের জন্য এভাবে বেঁচে থাকাটা যেন দুঃস্বপ্নের মতো।

কিডনি রোগে শেষ হলো জীবনের স্বপ্ন এবং সর্বশান্ত হলো আমার পরিবার। এখন আমি পরিবারের নিকৃষ্ট সদস্য। আমার জন্য আমার পরিবার এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। বলছিলেন সোহেল।

তিনি জানান, ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় গ্রামের মধ্যে সর্বপ্রথম কোনো ছাত্র হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হই। আমার সব বন্ধু বাইরে লেখাপড়া করতে যায়। কিন্ত আমি গ্রামেই থেকে যাই। কারণ, আমার পরিবারের সাধ্য ছিল না বাইরে লেখাপড়া করার খরচ বহন করার। কোনো মতে সরকারি লালন শাহ কলেজে ভর্তি হয়ে ২০১৩ সালে কলেজে সর্বোচ্চ রেজাল্ট জিপিএ ৪.৯০ পাই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল। তাই বাবাকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে ঝিনাইদহে কোচিং করার জন্য যাই। 

সোহেল বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হলেও পরিবারের ইচ্ছাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হই। টিউশনি করিয়ে সবকিছু ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু ২য় বর্ষ শেষে আমার জীবনে নেমে আসে অশনি সংকেত। ২০১৬ সাল থেকে কিডনি জটিলতায় আমার ও পরিবারের স্বপ্ন এখন মৃত প্রায়; আমিও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, সোহেলের দুটো কিডনি অকেজো। তবে আশার কথা হলো তার সঙ্গে ডোনারের কিডনি ম্যাচ হয়েছে। তাই একটি নতুন কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য এখন অপেক্ষা করছেন তিনি। কিন্তু করোনা মহামারির ২য় ঢেউয়ে থমকে আছে সোহেলের ভারত যাত্রা।

সোহেল জানান, খুব দ্রুতই ইন্ডিয়াতে কিডনি অপারেশন করতে হবে। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন যা বহন করা আমার পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। তাই আমি আবারও আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। আমি বাঁচতে চাই। আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের সাহায্যের মাধ্যমে আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে আরো কিছুদিন বাঁচতে চাই।

সোহেলকে সাহায্য পাঠাতে-  

১. সোনালী ব্যাংকঃ 2405901012932 
ব্রাঞ্চঃ হরিনাকুন্ডু, ঝিনাইদহ।

২. ডাচ-বাংলা 7017015485495 (এজেন্ট ব্যাংকিং)

৩. মোবাইল ব্যাংক: 01743700547(bKash), 017437005478( Rocket), 01915519487(নগদ)

যোগাযোগ: সোহেল রানা, মোবাইল: 01743700547

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!