সশরীরে ক্লাসে ফেরার আনন্দ চবি শিক্ষার্থীদের
২০২০ সালের ১৩ মার্চ সর্বশেষ সশরীরে ক্লাস করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামিম আহমদ শরীফ। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যেই কেটে গেছে দীর্ঘ ১৯ মাস। অবশেষে দীর্ঘ ১৯ মাস পর আজ সশরীরে ক্লাস করেন তামিম। বললেন, কতদিন ধরে অপেক্ষায় আছি আবার ক্লাসে ফেরার। সহপাঠী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি ক্লাস করা ভীষণ মিস করেছি এতদিন। আজ সেটি সমাপ্ত হয়েছে। আনন্দের কমতি নেই আমাদের। পৃথিবীটা সুস্থ থাকুক, করোনার মতো এমন কিছু যেন আর না আসে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেয়া পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিভিন্ন বিভাগে সশরীরে পাঠদান শুরু হয়। তবে পরীক্ষা চলমান থাকায় সবগুলো বিভাগ একইদিনে ক্লাস শুরু করতে পারে নি। এদিকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো আবাসিক হল শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। গতকালের মতো আজও কিছু বিভাগে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে বন্ধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা-কার্যক্রম। এরমধ্যে একাধিকবার সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণ হলেও ক্লাসে ফিরতে পারে নি শিক্ষার্থীরা। যার ফলে দীর্ঘদিন সশরীরে ক্লাস থেকে বঞ্চিত ছিল তারা। অবশেষে আজ সেই অপেক্ষার পালা সমাপ্ত হলও। যার ফলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।
.png)
ক্লাসে ফেরার আনন্দ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়াজ মোহাম্মদ এর। তিনি বলেন, অনেকদিন ধরে ক্লাসে ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দীর্ঘদিন পর ক্লাসে প্রবেশ করেছি। অনেক দিন পর বন্ধুদের পেয়ে বেশি ভালো লাগছে। অনলাইন ক্লাস আর অফলাইনে অনেক পার্থক্য। বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছ থেকে দেখার ভিন্ন আনন্দের।
প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান বলেন, মাত্র দুই মাস বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ক্লাসের সুযোগ পেয়েছি। করোনা আসায় প্রায় দুই বছর ধরে ক্লাস বিহীন। ফলে কারো সঙ্গে তেমন দেখা সাক্ষাৎ হয় নি। সামনের মাসে পরীক্ষা, তার আগে কিছু ক্লাস হবে আমাদের। ভালো লাগছে ক্লাসে ফিরে।
বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, শিক্ষার্থী এবং আমরা শিক্ষকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম সশরীরে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে। অবশেষে আমরা সেই সমযটায় পৌঁছেছি। দীর্ঘ প্রায় ১৯ মাস পর ক্লাসে ফিরে শিক্ষার্থীরাও প্রাণবন্ত ছিলো।
আইন অনুষদের শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান বলেন, আজ আমাদের বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস শুরু হয়েছে। এটি একটি ভালো বিষয়। গতকাল হল খুলেছে। অনেকদিন পর শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা হয়েছে ; প্রাণ খুলে কথা বলেছি। আজ ক্লাস শুরুর মাধ্যমে সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে। একজন শিক্ষকের পরিপূর্ণতা আসে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে। যদিও অনলাইনে ক্লাস হয়েছে; তবে সেখানে অফলাইনের মতো তৃপ্তি পাওয়া যায় না।