ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

মমেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধরে দুই আনসার সদস্য প্রত্যাহার

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ২১ অক্টোবর ২০২১
মমেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধরে দুই আনসার সদস্য প্রত্যাহার
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলার বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলার বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকারকে দুই আনসার সদস্য বন্দুক ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে দুই আনসার সদস্যের সঙ্গে সিরিয়াল নিয়ে বাক বিতণ্ডার জড়ায়। ঘটনার এক পর্যায়ে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে আনসার শরিফ এবং মাসুদ। যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

শিক্ষার্থী আহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির দুই সদস্য আসাদুজ্জামান নিউটন এবং আসলাম মাহমুদ। শিক্ষার্থীকে দেখতে আসে ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক ড. মেহেদি উল্লাহ।

Advertisement

হামলার বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেক) পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. ফজলুল কবীর এবং ৩ সদস্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল ।   

আলোচনা শেষে ঘটনায় জড়িত দুই আনসার সদস্যকে হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়, পাশাপাশি আনসার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা দুই আনসার সদস্য স্বীকার করেছে বলেছে নিশ্চিত করেছে হাসপাতালটির উপ পরিচালক ডা. মো. ওয়ায়েজউদ্দীন ফরাজী।

ডা. মো. ওয়ায়েজউদ্দীন ফরাজী বলেন, আমরা ও  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং আনসার সদস্যের বক্তব্য পেয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করে এবং ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রক্টর আসাদুজ্জামান নিউটন বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে উলটো পিটিয়ে অসুস্থ করে দিতে পারে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালের পরিচালক যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়েছেন এবং আনসারদের স্বীকারোক্তি পেয়ে তাদের হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর সব চিকিৎসা ব্যয় গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিচয় পত্র প্রদান করলে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। জঘন্য এই কাজের জন্যে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেও দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি প্রদান করবে মমেক।

আহত শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে যেভাবে আমায় পিটিয়েছে তা সামনে থেকে কেউ না দেখলে বুঝতো না। আমার শার্ট, ব্যাগ ছিড়ে ফেলেছে। চশমা ভেঙে দিয়েছে। সারা শরীরে লাঠি আর বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি জড়িতদের বিচার চাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!