ভিনদেশি পাখির কলকাকলিতে মুখর জাহাঙ্গীরনগর
ভোরে শিশির শিক্ত ঘাস। দৃষ্টির খুব কাছেই কুয়াশার রেখা। সূর্যের আলোতে ক্রমেই ম্লান হচ্ছে কুয়াশার আভা। হঠাৎ উত্তরের শিরশিরে হাওয়ার ঝাঁকুনি। প্রকৃতি এভাবেই শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসবের পাশাপাশি শীতের জানান দিচ্ছে দূরদেশ থেকে আসা পরিযায়ী পাখিরা।
এ সময়টাতে ক্যাম্পাসের লেকের জলে পাখিদের ভেসে বেড়ানো আর জলকেলির দৃশ্য যে কারও দৃষ্টি জুড়াবে। খুঁনসুটি আর ছোটাছুটিতে পাখিরা দিনভর মাতিয়ে রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের জল, স্থল আর আকাশ।
সবমিলিয়ে বছরের এই সময়টাতে নৈস্বর্গের আরেক নাম হয়ে ওঠে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে লাল শাপলায় রক্তিম শোভিত জলাশয়ে আগমণ ঘটে ভিনদেশি পাখির।
.png)
এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেক, ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকসহ সুইমিংপুল সংলগ্ন জয়পাড়া লেকে আশ্রয় করে নিয়েছে অতিথি পাখির দল।
দেশীয় জাতের পাশাপাশি বিদেশি হাঁসজাতীয় এসব পাখি বরফ শুভ্র হিমালয় ও সুদূর সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে আসে।
এই পাখিদের মধ্যে রয়েছে- সরালি, গার্গেনি, পিচার্ড, মানিকজোড়, মুরগ্যাধি, জলপিপি, নাকতা, কলাই, ফ্লাইপেচার, পাতারি, চিতা টুপি, লাল গুরগুটিসহ নানা প্রজাতি।
এরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু সময় কাটিয়ে পরে আবার ফিরে যায় নিজ দেশে। তাই এদের বলা হয় অতিথি পাখি। মূলত নিজ অঞ্চলের তীব্র শীত থেকে বাঁচতে প্রতিবছরই বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে উড়ে আসে অতিথি পাখিরা।
দেশি প্রজাতি মিলিয়ে মোট ১৯৫ প্রজাতির পাখি রয়েছে। অতিথি পাখিরা অক্টোবরের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জলাশয়ের আশপাশে আশ্রয় নিতে শুরু করে। আর ডিসেম্বরের দিকে তা পরিপূর্ণ রূপ পায়। তবে এবার একটু আগেভাগেই এসেছে অতিথি পাখি। ১৭ সেপ্টেম্বরে পাখির প্রথম দল ক্যাম্পাসে আসে বলে জানিয়েছে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছোট সরালি ও কিছু বড় সরালি প্রজাতির পাখি এসেছে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে বেশি পাখি আসে। এই সময়ে আমরা সবোর্চ্চ প্রজাতি পেয়ে থাকি। এ বছর যেহেতু নভেম্বর মাসে একটা বড় সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলেছে, লোকজনের সমাগম ঘটেছে এই কারণে এখন পর্যন্ত পাখির পরিমাণ তুলনামূলক কম। তবে আশা করছি ডিসেম্বরের শেষ দিকে পাখির সংখ্যা বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, ছুটির দিনগুলোতে লেকের পাড়গুলোতে অনেক বেশি লোকের সমাগম ঘটে। ফলে এই লেকগুলোতে যে পাখি বসে সেগুলো নিরাপদ বোধ করে না। দর্শনার্থীরা যাতে লেকের পাড়ে বেশি সময় না থাকে, ঢিল না ছোড়ে, কোনো ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য যাতে না ফেলে এসব বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।