ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জুনিয়র নির্যাতনের অভিযোগে বহিষ্কার ঢাবি শিক্ষার্থী

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:০১, ২১ ডিসেম্বর ২০২১
জুনিয়র নির্যাতনের অভিযোগে বহিষ্কার ঢাবি শিক্ষার্থী
বহিষ্কৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা’ সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী মো. সিফাতুল্লাহ সিফাত; ফাইল ছবি

বারবার হলে জুনিয়র মারধর ও নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা’ সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী মো. সিফাতুল্লাহ সিফাতকে হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। 

মাস্টারদা’ সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়৷ । 

সিফাতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি সূর্যসেন হলে ৩৫১ নম্বর কক্ষে থাকেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে একটি মারধরের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন সিফাত। তাঁর সেই বহিষ্কারাদেশ পরে প্রত্যাহার হয়। 

Advertisement

সবশেষ গত ১৩ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন তিনি। সিফাতের মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের (ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র কাজী পরশ মিয়া। 

অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ ডিসেম্বর সূর্য সেন হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক আহম্মদ উল্লাহকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ও অধ্যাপক সাইফুল্লাহ আকন। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তসহ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকলের সাথে কথা বলে নির্যাতনের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তাই কমিটি আবাসিক ছাত্রদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তাকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করে। পরে হল প্রশাসন তাকে বহিষ্কার প্রদান করে। 

এর আগে, ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এবং পরবর্তীতে সূর্যসেন হলের সামনে অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রোকেয়া গাজী (লীনা) ও আসাদুজ্জামানের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে সিফাত। এ ঘটনায় তাকে বহিষ্কারও করা হয়। এছাড়া এ বছরের ৮ নভেম্বর রাতে আরিফুল ইসলাম ও তরিকুল সরদার নামে দুই শিক্ষার্থীকে ৩৫১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেছেন এবং পরবর্তীতে এমন ঘটনা না ঘটানোর জন্য অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন। এসব ঘটনার পরও একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় হল প্রশাসন বিব্রত এবং এতে করে আবাসিক ছাত্রদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে সিফাতকে বহিষ্কার করা হয়৷ 

বহিষ্কার নোটিশে বলা হয়, একজন ছাত্র কর্তৃক এ ধরনের ঘটনা ঘটানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্ঘন, মর্যাদা ও আইনের পরিপন্থি। উল্লেখিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হলো। ভবিষ্যতে আপনাকে (সিফাতুল্লাহ) হলে অবস্থান করতে দেখা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের নোটিশটি প্রক্টর অফিস, উপাচার্য কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেওয়া হবে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না এ বিষয়ে শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!