ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

উইকেন্ড মাস্টার্সে অতিরিক্ত কোর্স নিতে জাবি শিক্ষকের ‘অসদাচরণ’

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১০, ২০ জানুয়ারি ২০২২
উইকেন্ড মাস্টার্সে অতিরিক্ত কোর্স নিতে জাবি শিক্ষকের ‘অসদাচরণ’

উইকেন্ড মাস্টার্স প্রোগ্রামে অতিরিক্ত কোর্স না দেয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কো-অর্ডিনেশন কমিটির সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে উইকেন্ড মাস্টার্সের ক্লাস নেয়া থেকেও বিরত রয়েছেন এই অধ্যাপক।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের উইকেন্ড মাস্টার্সের স্প্রিং সেমিস্টারে অধ্যাপক মনিরুজ্জামানকে তিনটি কোর্স পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে নিয়মবহির্ভূতভাবে চারটি কোর্স নিতে উইকেন্ড প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। চারটি কোর্স দেয়ার নিয়ম না থাকায় অপারগতা প্রকাশ করলে কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির সদস্যরা। পরে কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যদের নিয়ে অন্য শিক্ষকদের কাছে গালিগালাজ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশকিছু বছর যাবত ইংরেজি বিভাগে চলমান ‘উইকেন্ড মাস্টার্স প্রোগ্রামে’ চারটি করে কোর্সের শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে একজন শিক্ষক উইকেন্ড কোর্সে সর্বোচ্চ তিনটি কোর্স নিতে পারেন। চলতি (স্প্রিং) সেমিস্টারে ওই শিক্ষককে নিয়ম অনুযায়ী তিনটি কোর্সের দায়িত্ব দেয়া হয়।

কো-অর্ডিনেশন কমিটি সূত্রে জানা যায়, তিনটি কোর্স দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। তিনি চারটি কোর্সের দায়িত্ব নিতে চান। এজন্য তিনি কোর্স বণ্টনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে ‘অসদাচরণ’ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই তিন কোর্সের ক্লাস নেয়া থেকেও বিরত রয়েছেন তিনি।

বিভাগসূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইংরেজি বিভাগে সাপ্তাহিক মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৪টি করে কোর্সের দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। ২০১৮ সালের ‘উইন্টার’ সেমিস্টারে ৩টি কোর্স নিলেও স্প্রিং এবং সামার সেমিস্টারে ৪টি করে কোর্স নিয়েছেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালের উইন্টার সেমিস্টারে ৪টি, সামার সেমিস্টারে ৪টি এবং ২০২০ সালের স্প্রিং সেমিস্টারেও ৪টি কোর্স নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে ৪টি কোর্স নেন তিনি।

২০১৮ সালে সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উইকেন্ড কোর্সসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কোর্স পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালায় বলা হয়, একটি অনুষদ, ইনস্টিটিউট বা বিভাগে সপ্তাহে দুই দিনের প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ তিনটি কোর্স এবং এক দিনের প্রোগ্রামে দুইটি কোর্স পড়াতে পারবেন একজন শিক্ষক।

একই শিক্ষক দুই বছর উইকেন্ড প্রোগ্রামে পড়ানোর পর একটি সেমিস্টার পড়ানো থেকে বিরত থাকবেন এবং একাধারে দুইবার কেউ প্রোগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে থাকতে পারবেন না বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে। তবে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান এসব নিয়মও ভেঙেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগটির শিক্ষকরা।

এই নীতিমালায় বলা হয়, কোন অবস্থাতেই এই নীতিমালার ব্যতিক্রম হতে পারবে না। কোথাও ব্যতয় হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার থাকবে প্রশাসনের।

এদিকে গত শুক্র ও শনিবার এই সেমিস্টারে অধ্যাপক মনিরুজ্জামানের ক্লাস নেয়ার কথা থাকলেও তিনি নেননি।

কো-অর্ডিনেশন কমিটির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, উইকেন্ড কোর্স থেকে সম্মানী দেওয়া হয় কোর্স অনুযায়ী। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান চারটি কোর্স নিয়ে আসছেন নিয়ম ভেঙে। আর তিনি এবারও চারটি কোর্স নিতে আমাদের চাপ দিচ্ছেন। তাকে চারটি কোর্স দিতে অপারগতার কথা জানালে ক্ষুব্ধ হন। এতে আমাদের সঙ্গে দুর্বব্যবহার করেন। তিনি সহকর্মীদের কাছে আমাদের নামে গালিগালাজও করেছেন।’

এ বিষয়ে কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সানিয়াত সাত্তার গণমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এসব বিষয়ে অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি চিন্তা করেছি পড়াবো না এবার। আমি ১০-১২টি কোর্সের জন্য পছন্দক্রম পাঠিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে তিনটি কোর্স দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাকে এজন্য কোন হার্ডকপি বা নিয়ম মেনে জানানো হয়নি যে, আমি কোন কোর্স নিবো বা কবে থেকে নেবো। পরে শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন করে ক্লাস নেওয়ার কথা বলে। তখন কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাথে যোগাযোগ করলে তারা ই-মেইলে আমাকে জানিয়েছে বলে জানায়।

দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘আমার সাথে কো-অর্ডিনেশন কমিটির দেখাই হয়নি। সেখানে দুর্ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। বিভাগে আমি এই প্রোগ্রাম দাঁড় করিয়েছি। প্রথম চারবছর দায়িত্বে ছিলাম। আমার ক্ষুব্ধ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। এখানে কাজ না করলেও আমার চলে। এবার তো বিভাগের সিনিয়র শিক্ষককে কোর্স দেয়া হয় নাই। অথচ বাইরের শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি ফিফটি ফিফটি আছি, পড়াবো কি পড়াবো না।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!