ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শহিদদের স্মরণে আলপনায় সাজছে শহিদ মিনার এলাকা

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
শহিদদের স্মরণে আলপনায় সাজছে শহিদ মিনার এলাকা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আর মাত্র দুইদিন পরেই মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি চলছে শহিদ মিনার ও শহিদ মিনার সংলগ্ন এলাকায়। শহিদ মিনারকে সাজাতে শেষ হয়েছে বেদীতে রঙ করার কাজ। এখন শেষ সময়ে তুলির আঁচড়ে রাঙানো হচ্ছে শহিদ মিনারের বেদী।

ফাল্গুনের রোদ উপেক্ষা করে আলপনা আঁকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। তাদের সাহায্য করছেন একই অনুষদের শিক্ষকরা। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শহিদ দিবসকে উদযাপন করতে শহিদ মিনার এলাকা বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরাও করে দেওয়া হয়েছে। কাজ চলছে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপনের। 

শুক্রবার শহিদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো শহিদ মিনারে রঙ করা হয়েছে। শহিদ মিনারের চৌহদ্দিতে ঝাড়ু দেওয়া ও পানি দিয়ে ধোঁয়া-মোছার কাজ এরইমধ্যে শেষ। এখন একেবারে শেষ পর্যায়ের রঙের আঁচড় পড়ছে বেদীতে। সারিবদ্ধভাবে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মানুষ যেন আসতে পারে তার জন্য বাঁশ দিয়ে আটকানো হয়েছে চারদিক। শহিদ মিনারের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে আনসার সদস্যদের। সুষ্ঠুভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার জন্য শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। 

Advertisement

এদিকে শহিদ মিনারের আশেপাশের দেওয়ালে বাহারি রঙ দিয়ে লেখা হচ্ছে নানা উক্তি, আকা হচ্ছে রং-বেরঙের আল্পনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে এসব কাজ। সাদা, হলুদ, সবুজ ও নীল রঙের আল্পনায় শোভা পাচ্ছে এসব শিল্পকর্ম। দেওয়ালে লিখিত বিভিন্ন উক্তিগুলো হলো- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’, ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা’, ‘মাতৃভাষায় যাহার শ্রদ্ধা নাই সে মানুষ নহে’, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা! তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালোবাসা’ ইত্যাদি। 

চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়াতে গত বছরের ন্যায় এবারও দিবসটি সীমিত পরিসরে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পালিত হবে অমর একুশে। শ্রদ্ধা জানাতে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন একসঙ্গে শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের উদ্দেশ্যে আগত সবাইকে করোনা টিকা সনদ সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২ উদযাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। 

শহিদ দিবস উপলক্ষে ১৮ বছর ধরে একুশে ফেব্রুয়ারিতে আলপনা আঁকার কাজ করা অঙ্কনশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ অপু।

তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, শহিদদের উদ্দেশ্যে কাজ করার আনন্দটাই অন্যরকম। বাংলা ভাষার জন্য যারা শহিদ হয়েছেন তাদের জন্য প্রতিবছরই চারুকলা অনুষদের পক্ষ থেকে ছাত্র এবং শিক্ষক একসঙ্গে কাজ করি। এটি একটি মিলনমেলার মতো। ক্লাসের সময় শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক হয়, কাজের ক্ষেত্রে সে সম্পর্ক একটু আলাদা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন প্রথম বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন থেকেই আমি এই কাজ করি। অনেক ধরনের কাজ হয়, দেওয়ালে লেখা, আলপনা আঁকা, বিভিন্ন কবি বা বিশিষ্টজনের বাণী, কবিতা লেখা হয়, শহিদ মিনার বেদীতে বড় বড় ৯টি আলপনা হয়, রাস্তায় আলপনা হয়। এই কাজগুলো করতে পেরে গর্ববোধ হয়। বছরের এই সময়ে শহিদ মিনারে কাজের জন্য আমি অন্য কোনো কাজ রাখি না বা কোনো কাজে ব্যস্ত থাকি না। পুরো কাজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাজ করি, এটা আমার অনেক ভালো লাগে। 

শহিদ মিনারের পাশের দেওয়ালে আলপনা আঁকছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থী ইমরান মাহমুদ ইমু। শহিদদের স্মরণে আলপনা আঁকার অনুভূতি জানিয়ে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিবছরই আমরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে এই আলপনা আঁকি। অনেক ভালো লাগা কাজ করে৷ এই দেশের মানুষের জন্য, বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন তাদের স্মরণ করে অঙ্কন করা প্রতিটা রঙের আঁচড়ই অন্যরকম অনুভূতি জাগায়। মনে হয় যে দেশের জন্য আমিও কিছু করতে পারছি। 

শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে আসবেন যে পথে- 

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পলাশী মোড় থেকে শহিদ মিনার পর্যন্ত রাস্তায় ৩ ফুট পর পর চিহ্ন থাকবে। এই চিহ্ন অনুসরণ করে সবাই পর্যায়ক্রমে শহিদ মিনারে যাবেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এক্ষেত্রে যথাযথভাবে রোডম্যাপ অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া, বিভিন্ন প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবকরা হ্যান্ড মাইক দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে প্রচারণা চালাবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও তারা মনিটর করবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!