বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনার ঈশ্বরদী পৌর শহরের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকার মৃত টুনি মালিথার ছেলে আনোয়ার মালিথা (৪০) ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (৩৫)।
.png)
স্থানীয়রা জানান, আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আনোয়ার মালিথার ছেলে সিয়ামের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে বুধবার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে ছেলের বিয়ের কেনাকাটা করতে ঈশ্বরদী পৌর শহরে আসেন আনোয়ার। দিনভর কেনাকাটা শেষে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হলো না তাঁদের।
পৌর শহরের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন আনোয়ার ও স্বপ্না। ঘটনাস্থলেই স্বপ্না খাতুনের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আনোয়ার মালিথাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।
মাত্র দুই দিন পর ছেলের বিয়ে। সেই বিয়ের জন্য যে বাবা-মা একসঙ্গে বাজারে গিয়েছিলেন, তাঁদের মরদেহ ফিরল বাড়িতে। যে ঘরে বিয়ের আনন্দে আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা হওয়ার কথা, সেখানে এখন চলছে কান্নার রোল। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। আনন্দের সব আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের আবহে।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, সিয়ামের বিয়েকে ঘিরে পরিবারটিতে কয়েক দিন ধরেই ছিল উৎসবের আমেজ। বুধবারও বাবা-মা ছেলের বিয়ের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই আনন্দ কেড়ে নিল।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।