পারিবারিক ও নথিসূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ৩৯৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে পাবনা সদর উপজেলার আরএস ২৭৩ নম্বর দাগের ৪৭৯ নম্বর খতিয়ানের ১৪ শতক জমি হাসনাহেনার স্বামী আব্দুল গফুর বাদশা ক্রয় করেন। পরে নামজারি করে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি। প্রায় তিন বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর চার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে হাসনাহেনা একাই বাড়িতে বসবাস করছেন। এ ছাড়া তিনি স্ট্রোক করে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
হাসনাহেনার অভিযোগ, তার একাকীত্ব ও অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে নিকটাত্মীয় কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার জমিতে টিনের ঘর নির্মাণ করে দখল নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ভজেন্দ্রপুর এলাকার শহীদ আলী, তাসলি খাতুন, ছয়েদ আলী, আব্দুল গাফফার, আলেপ প্রামাণিক ও শান্ত হোসেন।
.png)
জমি উদ্ধারে হাসনাহেনা পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করে গত ১৮ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে জবরদখলকারীদের জমিতে ঘর নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
অভিযুক্তরা ৫৬০ ও ৫৬৬ নম্বর খারিজ খতিয়ানের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করলেও পাবনা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় গত বছরের ১২ অক্টোবর ওই খারিজ বাতিল করে। পরে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হাসনাহেনার পক্ষে রায় দেন এবং জমি জবরদখলমুক্ত করার কার্যক্রম চূড়ান্ত করেন। তবে আদালতের রায়ের পরও ঘর অপসারণ করে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন হাসনাহেনা।
হাসনাহেনা বলেন, ‘আমি অসুস্থ ও অসহায় নারী। জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমাকে কয়েক দফা হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
গত ১৮ জুলাই জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
অভিযুক্ত শহীদ আলী, তাসলি খাতুনসহ অন্যরা বলেন, তারা ওই জমির কয়েক শতাংশের মালিকানা পাবেন। নিজেদের জমিতেই ঘর নির্মাণ করেছেন এবং জমি খারিজও করেছেন বলে দাবি করেন তারা।
পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবেদনের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। পুলিশের কার্যপরিধির মধ্যে যতটুকু সম্ভব, তা করা হবে।’