ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

সুস্থ হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই না ফেরার দেশে ঢাবির রহিম মামা 

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২
সুস্থ হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই না ফেরার দেশে ঢাবির রহিম মামা 
খাবার বিক্রি করছেন রহিম মামা। (ফাইল ছবি)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের খাবার বিক্রেতা ছিলেন আব্দুর রহিম মামা। জন্মের দুই বছরের মাথায় হঠাৎ জলবসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে ডান চোখের দৃষ্টি শক্তি হারান তিনি। এরপরও দমে যাননি, বাসা থেকে খাবার বানিয়ে বক্সে করে প্রতিদিন সকালে হলে এনে রুমে রুমে বিক্রি করতেন। 

দৃষ্টিহীন এ মানুষটি সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে জীবনযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে এসে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার আকুতি জানিয়ে দেশবাসী ও সরকারের কাছে সহযোগিতাও চেয়েছিলেন। গতবছরের মাঝামাঝিতে (২০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এসে চোখের সাথে পা হারাতে বসায় সবার সহযোগিতা চান। 

সেদিন তিনি বলেছিলেন, চোখ তো চলে গেছে, এটার জন্য আমার আক্ষেপ নেই। আমার চাওয়া, আমি যেন সুস্থভাবে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। সেই সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটা হয়ে উঠলো না রহিম মামার। আক্ষেপ নিয়েই চলে গেলেন রহিম মামা। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে স্ট্রোক করে নিজ বাসায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে মুহসীন হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে রহিম মামাকে নিয়ে লিখেছেন হলের সময়ের সুখের স্মৃতিগুলো৷ 

Advertisement

রহিম মামা আজিমপুরের বিডিআর-৩ নাম্বার গেটে থাকতেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫১ বছর। নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পুঁজি করে অন্যের কাছে কখনো হাত না পাততেন না রহিম মামা। কষ্ট ও পরিশ্রম করে নিজেই পরিবারের সব ভরণপোষণ করতেন। 

মুহসীন হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, রহিম মামা খুব সৎ লোক ছিলেন। তার অসুস্থতা ও মৃত্যু আমাদেরকে ব্যথিত করে। আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, রহিম মামা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী থাকা সত্ত্বেও কাজ করে খেতেন, চরম অভাব থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তি করতেন না। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক।

গতবছরের জুনে রহিম মামার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেছিলেন, ২০০৮ সাল থেকে মুহসীন হলে খাবার বিক্রি করে আমার দিনকাল ভালোই কাটছিল। কিন্তু হটাৎ করে বছর দুয়েক আগে আমার ডান পায়ে ব্যথা অনুভব শুরু হয়। তারপর পরীক্ষা করে জানা যায় যে, আমার ডান পায়ের প্রধান রক্তনালী অকেজো হয়ে গেছে। পায়ে রিং লাগাতে হবে, রিং লাগালে হয়ত ব্যথাটা কমে যাবে। নতুবা যদি কোনো আঘাতজনিত কারণে পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাহলে পা পচে যাবে, কেটে ফেলতে হবে। এরমধ্যে আবার করোনার কারণে হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, এখন আমি সম্পূর্ণ বেকার। আয় রোজগার নেই।

কসমেটিক আইটেম বিক্রির মাধ্যমে ঢাবি ক্যাম্পাসে তিনি ব্যবসা শুরু করেন ১৯৯৬ সালে। ফেরি করে কসমেটিক আইটেম বিক্রি করতেন তিনি। বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে রহিম মামা ২০০৮ সাল থেকে মুহসিন হলে খাবার বিক্রি শুরু করেন। বাসা থেকে খাবার বানিয়ে বক্সে করে প্রতিদিন সকালে হলে নিয়ে আসেন তিনি। বাসায় রান্নার কাজে সহযোগিতা করেন স্ত্রী সফুরা বেগম। 

২০২০ সালের শেষের দিকে এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, এজন্য খাবার বিক্রি বন্ধ রাখেন। তার পায়ের প্রধান রক্তনালী অকেজো হয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে রিং পড়ানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!