ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন আসবে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। এছাড়া যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছে তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসতে পারবে। এক্ষেত্রে তাদের সবাইকে করোনা টিকা সনদ সঙ্গে রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক যারা রয়েছে তারা চেক করবে।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক ব্রিফিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এসব কথা জানান।
.png)
তিনি বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়াতে গত বছরের ন্যায় এবছরও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও মাস্ক পরিধান করতে হবে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পালিত হবে অমর একুশে উদযাপন। এতে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন একসঙ্গে শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন।
উপাচার্য বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সব বয়সের সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন দেখবেন যে আমরা জাতীয় একটি অনুষ্ঠান মাস্ক এবং স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে শহিদদের স্মরণ করছি তখন তারা আমাদের সভ্য জাতি হিসেবে বিবেচনা করবে যে আমরা মহামারির সময় কতটা সচেতন থাকি। আমরা সবাইকে অনুরোধ করি যারা শহিদ মিনার প্রস্তুত করছে তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল থাকি এবং তাদের সহযোগিতা করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২ উদযাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, অমর একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ্, যুগ্ম-সমন্বয়কারী ও শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, যুগ্ম-সমন্বয়কারী ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী।
শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে আসতে হবে কোন রুটে- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পলাশী মোড় থেকে শহিদ মিনার পর্যন্ত রাস্তায় ৩ ফুট পর পর চিহ্ন থাকবে। এই চিহ্ন অনুসরণ করে সবাই পর্যায়ক্রমে শহিদ মিনারে যাবেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এক্ষেত্রে যথাযথভাবে রুটম্যাপ অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া, বিভিন্ন প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবকরা হ্যান্ড মাইক দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে প্রচারণা চালাবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও তারা মনিটর করবেন। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে উপাচার্য সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চান।