ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

চবির শাটলে পাথর নিক্ষেপ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

চবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৫:১২, ১১ এপ্রিল ২০২২
চবির শাটলে পাথর নিক্ষেপ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েছে৷ যার ফলে আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ঝাউতলা, ক্যান্টনমেন্ট ও ষোলোশহর স্টেশনের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তি থেকে চলন্ত শাটলে টোকাইদের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে প্রতিদিনই রক্তাক্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। 

গত এক সপ্তাহ ধরে টানা পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ট্রেন যাত্রা নিশ্চিত করতে বগিতে বগিতে অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি। 

শনিবার (৯ এপ্রিল) পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী প্রক্টর ড. শহিদুল ইসলাম ও এহসানুল কবির পলাশ। 

Advertisement

একইদিন রাত সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী থেকে ছেড়ে আসা শাটল চৌধুরী হাট স্টেশনে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে পাথর নিক্ষেপকারী সন্দেহভাজন তিন শিশুকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নেশাদ্রব্যসহ ব্লেড ও একটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়। তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বক্সে নিয়ে আসলে তাদেরকে ষোলশহর রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইয়াসিন তোশি নামে এক শিক্ষার্থী নিক্ষেপ করা পাথরের আঘাতে মাথায় গুরুতর আহত হন। মাথায় ক্ষতস্থানে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে তার মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়।

এর আগে, গত বছরের ৭ নভেম্বর ঝাউতলা রেলস্টেশন থেকে ছোঁড়া পাথরের আঘাতে সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফুয়াদ হাসান নামে এক ছাত্র চোখে আঘাত পান। তারপর ৯ জানুয়ারি দুই নাম্বার গেট রেলক্রসিং এলাকা থেকে নিক্ষেপ করা পাথরের আঘাতে দর্শন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের কৌশিক পাল আহন হন।

শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান বাহন শাটল ট্রেন। প্রতিদিন শাটল ট্রেনে করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি শাটল ট্রেনে বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাথর নিক্ষেপের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ফেসবুক পোস্টে জনি রয় নামে এক ছাত্র লিখেন, শাটলে যাওয়া-আসা বন্ধই করে দিব বোধহয়। আজকে রাত সাড়ে ৮টার ট্রেনে ক্যাম্পাসে ফিরছিলাম। ২য় বগিতে ছিলাম। ক্যান্টনমেন্টের আগে আমার জানালার দুই ইঞ্চি পিছনে সজোরে একটা পাথর ছোড়ে সাইড থেকে। এই পাথরটা লাগলে বোধহয় মেডিকেল থাকতাম বা বড় কিছু হইতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ট্রেন যাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। চলন্ত শাটল ট্রেনে বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই ঘটছে বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। এতে আমাদের ছাত্ররা রক্তাক্ত হচ্ছে। আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কয়েকদফা এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!