ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নঃ অধ্যাপককে অব্যাহতি দিলো ঢাবি

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৭:১৮, ১৪ এপ্রিল ২০২২
ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নঃ অধ্যাপককে অব্যাহতি দিলো ঢাবি
ফাইল ছবি

ছাত্রীকে ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি। ওই শিক্ষক হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। 

সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি, ভবিষ্যতে তাকে কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত না–করা, সিঅ্যান্ডডি ও একাডেমিক কমিটির সভায় তাকে না ডাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে তার নামে বরাদ্দ থাকা বিভাগীয় কক্ষ বাতিলসহ আরো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতভাবে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

বিশ্বজিৎ ঘোষসহ ১৮ জন শিক্ষক ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় বলে সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, এটি একেবারেই একটা নাটকীয়তা। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। 

Advertisement

বাংলা বিভাগের একাধিক শিক্ষকসূত্রে জানা যায়, গত মার্চে বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজিজুল হকের কাছে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দেন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী৷ ২৯ মার্চ বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় অভিযোগটি উত্থাপন করা হলে কমিটি সর্বসম্মতভাবে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বজিৎ ঘোষসহ ১৮ শিক্ষক ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির ওই সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীর আনা যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যান একাডেমিক কমিটির সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি ওই ছাত্রীর অভিযোগপত্রটি পড়ে শোনান। কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশ্বজিৎ ঘোষ ওই ঘটনায় তাঁর ভুল হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি সবার কাছে ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও করুণা ভিক্ষা’ করেন। কিন্তু একাডেমিক কমিটির সদস্যরা তাঁর দ্বারা সংঘটিত অতীতের বিভিন্ন যৌন নির্যাতনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রার্থনা গ্রহণ করেননি। বিশ্বজিৎ ঘোষ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে তা সত্য বলে মনে হয়নি। বরং তাঁর ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও করুণা ভিক্ষার’ ঘটনায় তাঁর অপরাধ স্বীকারের বিষয়টিই প্রমাণিত হয়। 

কার্যবিবরণীতে আরও বলা হয়, যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতভাবে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একাডেমিক কমিটির সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তগুলো হলো— 

১. সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। (একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে পড়বে সব ধরনের ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষায় প্রত্যবেক্ষণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, এমফিল-পিএইচডি গবেষণা তত্ত্বাবধায়ন, পরীক্ষা কমিটির কাজে অংশগ্রহণ প্রভৃতি)। তাকে ভবিষ্যতে কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে না এবং সিএন্ডডি ও একাডেমিক কমিটির সভায় তাঁকে ডাকা হবে না। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও কার্যকর থাকবে।

২. তাঁর নামে বরাদ্দকৃত বিভাগীয় কক্ষ বাতিল করা হোক।

৩. আরো বৃহত্তর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে কি না সেটি অভিযোগকারীর সম্মতি সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

৪. তদন্তকালীন সময়েও একাডেমিক কমিটির এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/জেডএম
ট্যাগ: ঢাবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!