রমজান মাস হওয়ায় এবারের পয়লা বৈশাখের সকালে পান্তার আয়োজন হয়নি। তবে বর্ষবরণ করতে বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়নি। ২০২১ সালে হয়েছে সীমিত পরিসরে। তাই এবার বেশ জমজমাট ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। দুই বছর পর এবার অনেকটা চেনা রূপে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন হচ্ছে।
নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের কারণে চলাচলের পথ সরু থাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা এবার চারুকলা অনুষদের পরিবর্তে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বের করা হয়েছে। টিএসসি থেকে শোভাযাত্রাটি ভিসির বাসা সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন ঘুরে আবার টিএসসি এসে শেষ হয়।
.png)
মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে নানা সাজের নানা শ্রেণির মানুষের ভিড় দেখা গেছে। পুরুষদের পরনে পাঞ্জাবি আর নারীরা পরেছে শাড়ি, মাথায় ফুল বেঁধে বৈশাখী আমেজে মেতেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার আগমনে পহেলা বৈশাখ যেন প্রাণ পেয়েছে। চারুকলার গেট দিয়ে প্রবেশ করে ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়, সবাই বৈশাখী আমেজে রয়েছে। কেউ নিজের বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ পরিবার বা বাচ্চাদের নিয়ে এসেছে।

চারুকলায় দেখা হয়, রাজধানীর টিকাটুলি থেকে ঘুরতে আসা শিশু অর্ভিন রায় অগ্রের সঙ্গে। বাবার সঙ্গে নববর্ষ পালন করতে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে শিশুটি। অংশ নিয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রায়ও।
অর্ভিন বলে, এখানে আসতে পেরে ভালো লেগেছে। আগে কখনো আসিনি। এবারই প্রথম এসেছি। সবার সঙ্গে আনন্দ করতে ভালো লাগছে।
অর্ভিনের বাবা অসীম কুমার দাস বলেন, ‘অর্ভিন গতরাত থেকেই এখানে আসার জন্য বলে রেখেছে। বলেছে সকালে উঠে যাতে ডাকি। আমি ভেবেছিলাম, সকালে সে উঠতে পারবে না, কিন্তু এক ডাক দিলেই সে উঠে এখানে আসার জন্য প্রস্তুত হয়। পরে আমরা সকাল ৬ টায় মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে এখানে আসি।
নববর্ষ উদযাপন করতে রামপুরা থেকে টিএসসিতে এসেছেন সন্দীপন দাস। তিনি বলেন, এটি আমাদের বাংলা সংস্কৃতির অংশ। আমাদের সংস্কৃতিকে আমরা যত বেশি সম্মান করতে পারব দেশ তত এগিয়ে যাবে। সেখানে কোনো জাত-পাত থাকবে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে সংস্কৃতি চর্চা করব। আমাদের সংস্কৃতি যত বেশি চর্চা হবে অপসংস্কৃতি তত তাড়াতাড়ি দূর হবে।
এর আগে, বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা স্মৃতি চিরন্তন হয়ে পুনরায় টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগতরা কোনো মুখোশ পরেনি এবং ব্যাগ বহন করেনি। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেউ ভুভুজিলা বাঁশি বাজায়নি। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ ছিল।