ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‘গ’ ইউনিটের ৯৩০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৩০ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি যুদ্ধে লড়বেন।
.png)
এদিকে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এর।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন করার জন্য সব অনুষদের ডিনদের বলা হয়েছে। তারা স্ব স্ব অনুষদের প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখবেন।
পরীক্ষায় সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের ভর্তি পরীক্ষা মোট পাঁচটি। পাঁচটি ভিন্ন দিনে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষার ইউনিট প্রধানগণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক বিষয়ে এগুচ্ছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কোনো গুজব বা তথ্য পাওয়া গেলে প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে এটা আসলেই নাকি গুজব। গুজব হলে পুলিশকে ইনফর্ম করা হয় এবং পুলিশ একটি সতর্কবার্তা দেয়। গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিনগণ ব্যবস্থা নেবেন।
‘গ’ ইউনিটের ইউনিট প্রধান ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। সর্বদা এ বিষয়ে চোখ-কান খোলা রাখছি। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সজাগ আছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ঢাবি ভর্তির পরীক্ষা একটি পাবলিক পরীক্ষা। গত পাঁচ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর থেকে নতুন আঙ্গিকে ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই পরীক্ষায় কেউ কোনো ধরনের অপরাধ করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কোনো ধরনের মিথ্যাচার, ভুয়া সংবাদ, গুজব ইত্যাদিতে বিভ্রান্ত না হতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে আহ্বানও জানান তিনি।
ঢাবির জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঢাবি ক্যাম্পাসে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, জনসমাগম ও পরিবেশ দূষণ না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা জারি করে বলা হয়, ভাসমান দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও লিফলেটসহ অন্যান্য প্রচারণা কার্যক্রম ক্যাম্পাসকে অপরিচ্ছন্ন করে ও চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তাই পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
এতে আরো বলা হয়, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার লক্ষ্যে পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসের প্রবেশপথ ও বিভিন্ন জায়গায় রোভার স্কাউট এবং বিএনসিসিসহ স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়োজিত থাকবেন। ক্যাম্পাসের নান্দনিক পরিবেশ ও সবুজায়ন রক্ষা এবং পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
গত বছরের মতো এবারো দেশের ৮ বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা। এর আগে, প্রথমবারের মতো ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় দেশের আট বিভাগীয় শহরে।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম বিভাগের কেন্দ্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাজশাহী), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুলনা), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিলেট), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (বরিশাল) ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (রংপুর) কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ জুন (শনিবার) কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিট, ১০ জুন (শুক্রবার) বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিট এবং ১১ জুন (শনিবার) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও আগামী ১৭ জুন সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাবির চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) অনুষ্ঠিত হবে।
এবার ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৪৮ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। মোট আসন সংখ্যা ৬ হাজার ৩৫টি। সেই হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ৪৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এবার ‘ক’ ইউনিটে ১ হাজার ৮৫১টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭১০ জন, ‘খ’ ইউনিটে ১ হাজার ৭৮৮টি আসনের বিপরীতে ৫৮ হাজার ৫৫১ জন আবেদন করেছেন। এছাড়া ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ৯৩০টি আসনের বিপরীতে ৩০ হাজার ৬৯৩ জন, ‘ঘ’ ইউনিটে ১ হাজার ৩৩৬টি আসনের বিপরীতে ৭৮ হাজার ২৯ জন এবং ‘চ’ ইউনিটে ১৩০টি আসনের বিপরীতে ৭ হাজার ৩৫৭ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।