অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৪৬তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক ছাত্র।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নার্স।
.png)
শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে যৌন হয়রানির এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনকে ইনজেকশন দেয়ার সময় সে আমার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এ সময় আমি চিৎকার করলে আমার সহকর্মীরা ডিউটি রুমে এসে উপস্থিত হয়। ওই ছাত্র তখন সরে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমার উপর সংঘটিত এই যৌন হয়রানির সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুন বলেন, আমি ইনজেকশন নেয়ার সময় নার্সের গায়ে হাত দেই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি সত্য।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, এ ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলে ফরওয়ার্ড করা হবে৷ সেল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে৷
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চিকিৎসা কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ইউনিয়ন ও সমিতির সদস্যরা। ফলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের আশ্বাসে ও রোগীদের সেবা নেয়ার কথা বিবেচনা করে তালা খুলে দেয় তারা।
কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, আমাদের সহকর্মী সেবাদানরত অবস্থায় ছাত্র নামধারী এক শিক্ষার্থীর দ্বারা নিপীড়নের শিকার হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের শাস্তির দাবি করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আমরা আন্দোলনে যাবো।
কর্মচারীদের আল্টিমেটামের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, বিষয়টা যেহেতু সেনসিটিভ, আমি আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের বেঁধে দেয়া আল্টিমেটামের পূর্বেই সিদ্ধান্ত নিবেন।
অভিযুক্ত মামুনের বন্ধু ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে মানসিকভাবে অসুস্থ। গত বৃহস্পতিবারে সে হলের নিজ কক্ষে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেন জানান ওই হলের ওয়ার্ডেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল মোর্শেদ।
তিনি বলন, মামুন তার কক্ষে সুইসাইডের চেষ্টা করছিলো বলে তার রুমমেট হল অফিসে অভিযোগ করেন। পরে হল অফিসে মামুন ও তার বন্ধুদের সাথে প্রায় তিনঘণ্টা আলোচনার পর তাকে রুমে দিয়ে আসি। কাউন্সিলিংয়ের পর মনে হয়েছিলো সে আর কোনো এটেম্পট নিবে না। চিকিৎসাধীন বলে জেনেছি। আজ সকালে আবার এ ঘটনার কথা শুনলাম। এখন মানসিক ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তার অবস্থা জানা যাবে।