গত ৩ জুলাই ২০২২ তারিখে ইউজিসির হিসেব পরিচালক স্বাক্ষরিত ঐ চিঠি আজ (মঙ্গলবার) ডেইলি বাংলাদেশের হাতে এসেছে। তবে ঐ চিঠির জবাব এখনও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে বকেয়াসহ ঈদের উৎসব ভাতা হিসেবে এক লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা রেজিস্ট্রারকে দেয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২৬ জুন ২০২২ তারিখে জনতা ব্যাংক, লালবাগ বাজার শাখায় পাঠানো উৎসব ভাতার ইনভয়েস থেকে দেখা গেছে ঈদুল আজহা এবং ঈদুল ফিতরের বকেয়া উৎসব ভাতা হিসেবে ঐ অর্থ রেজিস্ট্রারের অ্যাকাউন্টে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. হাসিবুর রশীদ।
.png)
অথচ সার্চ কমিটির সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৮৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৫ সালে অবসরে যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর চৌধুরীকে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাসিবুর রশীদ স্বাক্ষরিত রেজিস্ট্রারের নিয়োগপত্রে দুই নম্বর শর্তে উল্লেখ রয়েছে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী টাকা ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা গ্রেড-৩ এর সর্বশেষ ধাপ ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা মূল বেতন এবং বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, মোবাইল বিল ১৫০০ টাকাসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালে মাসিক সর্বসাকুল্যে ১ লাখ ৫ হাজার ৬৬০ টাকা প্রাপ্য হবেন। ইহা ব্যতীত অন্য কোনো ভাতা প্রাপ্য হবেন না।
ঐ নিয়োগপত্র অনুযায়ী ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন আলমগীর চৌধুরী।
এ বিষয়ে গত ২৯ জুন একটি দৈনিকের শেষ পাতায় “রোকেয়ার ‘ভাগ্যবান’ রেজিস্ট্রার” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির পক্ষ থেকে অর্থ পরিচালক বিষয়টির জবাব চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেন। ঐ চিঠিতে বলা হয়, ২৪ মে, ২০২২ তারিখে জারিকৃত বাজেট পরিপত্রের অনুচ্ছেদ-৩০ এ উল্লেখিত বিষয় উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত রেজিস্ট্রারকে কোন নিয়মের আওতায় উৎসব ভাতা দেওয়া হয়েছে তার যৌক্তিকতা উল্লেখ করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, চুক্তিপত্র ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক দলিলাদির সত্যায়িত কপিসহ সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিঠির জবাব কমিশনে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউজিসির অর্থ পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ঐ চিঠির জবাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনও দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার জন্য সোমবার দুপুরে তার দফতরে গেলে জানা যায়, উপাচার্য ঢাকায় রয়েছেন। মোবাইলে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।