ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বৃষ্টির ছবিতে মুগ্ধতা ছড়ানো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ২১ আগস্ট ২০২২
বৃষ্টির ছবিতে মুগ্ধতা ছড়ানো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যখন-তখন আকাশের মন খারাপ হচ্ছে, হঠাৎ করেই মেঘে মেঘে সংঘাত, বজ্রপাতের শব্দ। কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আবারো রোদ্র উজ্জ্বল দিন। মানবসমাজে বৃষ্টি এমনিতেই যেন উৎসব নিয়ে আসে। আর এ উৎসব যদি হয় নদী ঘেঁসে জেগে ওঠা দক্ষিণ বঙ্গের বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাহলে তো আর কথাই নেই। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃষ্টি মুখর দিনগুলো নতুনভাবে সজীব করে তোলে পুরো ক্যাম্পাসটাকে। বৃষ্টির জলে ধুয়ে-মুছে স্নিগ্ধ রূপে ধরা দেয় প্রতিটি দালান-বৃক্ষ। এমন মুখর পরিবেশই পুরো শ্রাবণ জুড়ে বিরাজ করছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

Advertisement

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কীর্তনখোলা নদীর বুক চিড়ে বেয়ে যাওয়া দপদপিয়া ব্রিজ তার বৃষ্টি মুখর নদীর সৌন্দর্য দিয়ে এক নিবিড় অনুভূতির রাজ্যে প্রবেশের হাতছানি দেয়, ব্রিজের মাঝ বরাবর আসতেই ল্যাম্প পোস্টের উপর দিয়ে মেঘের আনাগোনা মনে হবে এই বুঝি আমাকে ছুঁয়ে গেল এখনই। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আসতেই পিচ ভেজা রাস্তার পাশে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে থাকা লাল বাসগুলোর (ডবলডেকার) উপর দিয়ে মেঘের ভেসে চলা ছবির মতোই দৃষ্টিনন্দন। ভিসি গেট পেড়িয়ে একটু ভেতরে প্রবেশ করতেই নানারকমের ফুল-ফল গাছের সমারোহ, মুক্তমঞ্চের উপর থেকে পলাশ গাছ পেড়িয়ে একাডেমিক বিল্ডিংয়ের সৌন্দর্য বিমোহিত করে সব শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝুম বৃষ্টি নামলে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফুটবল নিয়ে নেমে পড়া ছেলেদের উচ্ছ্বাস যেন শৈশবের স্মৃতিতে নিয়ে যেতে বাধ্য করবে। একটু সামনে গিয়ে ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে আসা শিক্ষার্থীদের সমবেত হওয়া জমজমাট করে তোলে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনেই চায়ের দোকানগুলোতে বৃষ্টিমুখর দিনে জটলা পাকানো আড্ডা, কারো কারো পরীক্ষার চিন্তায় মগ্ন শিট-নোট নিয়ে ছুটে চলা, এক ছাতার নিচে কাপলদের হেঁটে চলা কিংবা লাইব্রেরির জানালা দিয়ে টপারদের উঁকিঝুঁকি এক নিদারুণ সৌন্দর্য তৈরি করে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বৃষ্টিমুখর বা এই মেঘলা দিনে প্রশাসনিক বিল্ডিংয়ের বারান্দা থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও মসজিদ এক ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। ঢেউ খেলানো ঘাসের বিচিত্র রূপ, শীতল হাওয়া, মেঘের আনাগোনা এবং বৃষ্টির ঝাপটা এক মুহূর্তের জন্য হলেও নিজেকে হারিয়ে ফেলবেই।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এছাড়াও চার আবাসিক হল, চার চত্বর, তালতলা, ভোলার রোডের (বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক) মনোরম পরিবেশ, কেন্দ্রীয় মন্দির, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লন্ডন ব্রিজ সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্য একসঙ্গে ঢেলে দিয়েছে এই ক্যাম্পাসে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বৃষ্টির এই বিচিত্রতা কেবল শিক্ষার্থীদের উন্মাদনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মকর্তারাও বর্ষণমুখর দিনগুলোতে দিব্যি বিমোহিত হয়ে পড়েন, ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ মুঠো ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য প্রকাশ করেন প্রায়শই। শখের বশে দুলাইন গান গাইতেও শোনা যায় মাঝেমধ্যে ‘এলো বর্ষা যে সহসা মনে তাই, রিমঝিম রিমঝিম গান গেয়ে যাই’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এ দিনগুলো সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা রহমান রুপা বলেন, ভাদ্রের শুরুতেও বৃষ্টির প্রকৃতি যেন তাল মিলিয়েছে কীর্তনখোলার পাশে গড়ে ওঠা আমার প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসে। সৌন্দর্য যেন বৃষ্টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরো মাধুর্য সঞ্চার করেছে। পরতে পরতে প্রতিটি অঙ্গনে সৌন্দর্য প্রকাশ পাচ্ছে। কখনো মেঘের ঘনঘটা তো কখনো ঝিকিমিকি রোদ নতুন বেড়ে ওঠা গাছগুলো যেন হাওয়ার তালে লুকোচুরি খেলে। সব মিলিয়ে বৃষ্টি সত্যি এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে এই ক্যাম্পাসে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!