ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বিকেলের বাসে সিট পেতে সকালেই হুড়োহুড়ি

বাস সংকট
আহসান হাবীব, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১২:৫০, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
বিকেলের বাসে সিট পেতে সকালেই হুড়োহুড়ি
নজরুল ভাস্কর্যের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর ২টা। আর ১৫ মিনিট পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো যাত্রা শুরু করবে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাসে উঠে সিট পাবার কোনো উপায় নেই তখন। কেননা পরিবহন সংকট থাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই যার যার সিট রেখে দিয়েছেন। কেউ কেউ সিটগুলোতে খাতা, বোতল কিংবা একটি কাগজ দিয়ে বন্ধুদের জন্যেও বরাদ্দ করে রেখেছেন। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিত্যকার ঘটনা এটি। ক্যাম্পাস থেকে ময়মনসিংহের টাউনহলের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ আবাসিক সুবিধা না থাকা, শহরে সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকা ও টিউশনসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীরা শহরে থাকেন। তাদের সবারই ক্যাম্পাসে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন। তবে চাহিদা অনুযায়ী পরিবহন সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা ও ১০টায় টাউনহল থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো দুপুর সোয়া ২টায় ও সোয়া ৪টায় ক্যাম্পাস থেকে টাউনহল যায়। এ বাসগুলোতে যারা ক্যাম্পাসে আসেন তারা নামার সময়ই ফেরার জন্য সীট রেখে দেন। তাদের দাবি, দুপুর কিংবা বিকেলের বাসে এখনি সিট রাখতে হচ্ছে। তা নাহলে পরে যুদ্ধ করেও সিট পাওয়া যাবে না। নিয়মিত অনেকেই দাঁড়িয়েই যান ২৬ কিলোমিটার রাস্তা। বাসে নড়ার জায়গাও থাকে না। 

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সংখ্যা অপ্রতুল। তাই সিট পেতে বেগ পেতে হয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত ইভা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সংখ্যা অপ্রতুল। তাই সিট পেতে বেগ পেতে হয়। ২টায় ময়মনসিংহ যেতে চাইলে কেউ ১১টায় সিট রাখতে আসতে পারে না। তাই যারা আসে, যাওয়ার জন্য তারাই সিট রেখে দেয়। একেকজন ৫-৭ জনের জন্য সিট রেখে দেয়। 

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন সিডিউল করা হয়েছে যা একটা অপরিকল্পিত সিডিউল। যখন যায় তখন একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বাস যায়, তাই সবাই সকাল থেকেই অপেক্ষা করে থাকে এবং সিট রেখে দেয়৷ যদি এক ঘণ্টা পরপর বাস চলত, তাহলে এমনটা হতো না। পর্যাপ্ত বাস নেই। 

পরিবহন দফতর সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সর্বমোট ১৯টি বাস-মিনিবাস নিয়মিত চলাচল করছে। এরমধ্যে নিজস্ব বাস সাতটি, নিজস্ব সিভিলিয়ান মিনিবাস রয়েছে চারটি। এছাড়া বিআরটিসির ভাড়া করা ছয়টি ও শিকদার ট্রান্সপোর্টের দুইটি বাস চলছে নিয়মিত। সদ্য কেনা দুইটি নিজস্ব বাস চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. মো. আরিফুর রহমান বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রস্তুতকৃত নতুন সিডিউলের কারণে একটু চাপ পড়ছে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই তা করা হয়েছে। তবে সংকট দূর করাসহ সম্প্রতি নতুন দুটি নিজস্ব বাস যুক্ত হয়েছে। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী ৫-৭ জনের জন্য সিট রেখে দিচ্ছে বলে সময়মত এসেও অনেকে সিট পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সুদৃষ্টি কামনা করছি।

নতুন দুটি বাস যুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ভাড়া বাস ও নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছি। বাস দুটি চলাচল শুরু করলে ভিড় ও চাপ কমবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!