খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরব
মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ আর কোন কিছুতেই নেই। প্রতিদিনের ইফতারে রুমমেটসহ হলের বান্ধবী, ডিপার্টমেন্টর বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া হলেও পরিবার নামক ব্যাপারটার শূন্যতা সবসময় অনুভব হয়। করোনাকালে অনেকদিকে খারাপ গেলেও পরিবারের সবার সঙ্গে এক মাসের সেহরি ইফতারে একটা শান্তি ছিল। তবে খুব তাড়াতাড়ি ক্যাম্পাসের কোলাহল পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরব।
.png)
আতিকা সুলতানা সম্পা
এই রমজানে মা নেই
পরিবার ছাড়া রোজা কল্পনা করা কষ্টকর। জীবনের তাগিদে পরিবার থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে রোজা রাখতে হচ্ছে। প্রতিবার মায়ের সঙ্গে বসে একসঙ্গে ইফতার আর সেহরি করতাম। এবার আর মা নেই। বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র পাশে থাকলেও মনে হয় পাশে নেই। তবুও সবকিছু মেনে নিয়ে হাসিমুখে একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করি। ইফতার বা সেহরি একসঙ্গে করি। এটাই রমজানের মাহাত্ম্য।
সাখাওয়াত হোসাইন রিফাত
ইফতারের শরবতটা নিজে তৈরি করতাম
সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের আগে মায়ের ডাকে টেবিলে হাজির হলে নিমিষেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যেত। কখনো কখনো ইফতারের শরবতটা আমি নিজে তৈরি করতাম। তারপর ভাইবোন ও পরিবারের সবাই ইফতার সামনে নিয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন আজান হবে! এখন ইফতারের সময় হলে সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে।
পরিবার ছেড়ে বহুদূরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করার মধ্যেও আনন্দের ভিন্ন একটি মাত্রা আছে। ইফতারের আগ মুহূর্তে বন্ধুরা একসঙ্গে খোশগল্প করা, ইফতার প্রস্তুত করা, ইফতার ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারের শূন্যতা যেমন অনেকটা দূর হয়, তেমনি বন্ধুদের সঙ্গে হৃদ্যতাও বৃদ্ধি পায়।
মুহা. রেজওয়ানুল হক
খালারাও রমজানের সঙ্গী
এ সময় বাসার সবার সঙ্গে ইফতার সেহেরি করাটা খুব মিস করি। এই শূন্যতাকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব না। তারপরও রুমমেটের সঙ্গে ইফতার, সেহেরি করে অনেকটা শান্তি পাই। মেসের খালারাও এই রমজানের সঙ্গী হয়ে উঠেছে।
কান্তা ইসলাস
মায়ের হাতের আলুর চপ মিস করি
ক্যাম্পাসে সিনিয়র, বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করার বিষয়টি কম উপভোগ্য নয়। মায়ের হাতের আলুর চপের স্বাদ পাওয়া যায় না ঠিক, কিন্তু প্রতিদিন একেক মামার দোকানের আলুর চপ আর তাদের হাতে তৈরি করা ইফতারের স্বাদ খারাপ লাগে না। সবাই যেহেতু পরিবার থেকে দূরেই থাকি, সিনিয়র, জুনিয়র আর বন্ধুদের ভালোবাসায় রমজানের যাবতীয় কার্যক্রমে শূন্যতা বোধ করি না।
মো. মাসেদুল ইসলাম
বন্ধুরা শূন্যস্থানে জায়গা খুঁজে নিয়েছে
পড়াশোনার জন্য পরিবার ছেড়ে এতো দূরে থাকতে হচ্ছে কিন্তু পবিত্র রমজান মাসের রোজা তো পালন করতেই হবে। সবকিছুর ভিড়েও ক্যাম্পাস এ আলাদা একটা পরিবার পেয়েছি। এখানে সবার সঙ্গে থাকলে পরিবারের অভাবটা কেউ কাউকে বুঝতে দেয় না। সবাই মিলে একসঙ্গে সেহেরি এবং ইফতার করা হয়। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসের এই নতুন পরিবারটা সেই শূন্যস্থানে জায়গা খুঁজে নিয়েছে।
আরজী জান্নাত
বন্ধুদের জন্য পরিবারে শূন্যতা লাঘব হয়
ক্যাম্পাস কবে বন্ধ হবে এই বিষয়টা বারবার তাড়া করে। ইফতার এবং সেহরির সময় পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মুহূর্তটা সবথেকে সেরা মুহূর্ত। তবে ক্যাম্পাসের বন্ধুরা একসঙ্গে মিলে ইফতার করায় পরিবারের শূন্যতা খানিকটা লাঘব হয়।
কাবির আবদুল্লাহ
ফোন কলে পরিবার থেকে সাহস যোগায়
পরিবারের বাইরে থাকা এমনিতেই কষ্টকর, কিন্তু রমজান মাসে পরিবার ছাড়া দূরে থাকাটা অনেক বেশি বেদনাদায়ক। পরিবেশ, পরিস্থিতি, খাদ্যাভ্যাস এবং টেবিল শেয়ার করা মানুষগুলোকে খুব মিস করি। যদিও ক্যাম্পাসের সিনিয়র-ব্যাচমেট-জুনিয়রদের সঙ্গে আড্ডা ও গল্পগুজব এসব একাকীত্বকে অনেকটা ভুলিয়ে দেয়। ফোন কলে মা, ভাই-বোন সবসময় আমার সাহস-যোগায়।
জান্নাত আক্তার নিকি