মেহেদী হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি কাস্টোমাইজ করা বাহারি রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, জার্সি, হুডি, ক্যাপ, পাঞ্জাবী, মাস্ক, মগ, চাবির রিং, কলমসহ বিভিন্ন প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করেন তিনি। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো, বিভাগ ও নিজ ব্যাচের নামসহ নিজেদের পছন্দের ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে এসব প্রডাক্ট অর্ডার করে থাকেন।
বিভাগের এক অনুষ্ঠানে ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য টি-শার্ট বানানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। সেবারের কাজটা বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় নিজের মধ্যে। পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসের বন্ধুদের নিয়ে টি-শার্ট তৈরির কাজ শুরু করেন। ক্রমশ কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের টি-শার্ট বানানোর অর্ডার আসতে শুরু করে।
.png)
ক্যাম্পাস ফ্যাশনের রয়েছে একটি ফেসবুক পেইজ। যেখানে অনুসারীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে যাত্রা শুরু হলেও ২০২০ এবং ২০২১ সালে ক্যাম্পাস ফ্যাশনের বিস্তৃতি বেড়ে যায়। সে সময় করোনার প্রকোপ শুরু হলে অনলাইনে কেনাকাটা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ঐ সময়ে মেহেদীর কাজের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। তখন ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রোডাক্ট অর্ডার করতে শুরু করে।
_1684561627.jpg)
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে মেহেদী হাসানের ক্যাম্পাস ফ্যাশন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস ফ্যাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি রয়েছে।
তিনি জানান, সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়ে থাকে।
মেহেদী হাসান জানান, রাজধানীর পুরাণ ঢাকার সিদ্দিক বাজারে তার নিজস্ব কারখানা রয়েছে। সেখানেই পণ্য তৈরি হয়ে থাকে। ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে সেখানে। অর্ডারকৃত পণ্য সেখান থেকেই পুরো বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সোশ্যাল কিংবা প্রমোশনাল ইভেন্টস, রেস্টুরেন্ট, করপোরেট অথবা সেলফ ব্রান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও ক্রেতার নিজস্ব ডিজাইনে প্রোডাক্ট সরবরাহ করা হয় বলেও জানান তিনি।
ছাত্র অবস্থায় নিজের কলেজ জীবনের সহপাঠীকে বিয়ে করেছিলেন মেহেদী। নিজের সফলতার পেছনে নিজের সহযোদ্ধা জান্নাতুল ফিরদাউসের বড় অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি।
পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে নিজের ব্যবসা সামলে নিচ্ছেন মেহেদী হাসান। এমনকি বিভাগের ফলাফলেও কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান তিনি। তিনি জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে অনেক সময় অপচয় করে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন মেহেদী। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ব্যবসা সম্পর্কিত আড্ডা দিতেন। বন্ধুরাও ছিল তার মতো। তার পরিকল্পনা রয়েছে বড় পরিসরে কাজ করার। দেশের বাইরেও প্রোডাক্ট সরবরাহ করতে চান তিনি।