ক্যাম্পাসে রয়েছে তাদের একটি নিজস্ব দোকান। যেখান থেকে ক্রেতারা কম দামে কিনতে পারছে বিভিন্ন রকমের ফল। এছাড়াও বিক্রি করছেন ইফতার প্যাকেজ। অর্ডার করলেই প্রয়োজনীয় ফল ও ইফতার সামগ্রী তারা পৌঁছে দিচ্ছেন ক্রেতার রুমে।
তরুণ এই উদ্যোক্তারা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক, কামরুল ইসলাম এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আমির হামজা। তারা সবাই ২০১৭-২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। ‘রাবি ফ্রুটস’ নামে তাদের এই দোকানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হল ও সৈয়দ আমীর আলী হল সংলগ্ন। শুধু দোকান নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘রাবি ফ্রুটস্ কর্নার’ নামে রয়েছে একটি পেজ। সেখানে প্রয়োজনীয় ফল অর্ডার করলেই তারা তা পৌঁছে দিচ্ছেন। অনেকে আবার সশরীরে এসেই ক্রয় করছেন বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী।
.png)
শুরুর গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, রোজার সময়ে বাজারে সব ধরনের ফলের দাম বেড়ে যায়। তাছাড়া এসময় ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাজারগুলোতে থাকে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সারাদিন রোজা থাকার পর ইফতারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় ভালো ইফতারও পাওয়া যায় না। আমরা চিন্তা করলাম সুলভ মূল্যে যদি ইফতারের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন রকমের ফল ও ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করি তাহলে কেমন হয়? সেই ভাবনা থেকেই আমাদের ফ্রুটস্ কর্নারের যাত্রা।

দোকানে কি কি ফল পাওয়া যায়? জানতে চাইলে উদ্যোক্তা ওমর ফারুক বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে প্রায় সব ধরনের সতেজ ফল বিক্রি করে থাকি। তরমুজ, আনারস, আপেল, মালটা, কলা, কমলা, খেজুর, পেয়ারা, লেবু, শসাসহ হরেক রকমের ফল পাওয়া যায়। এসব ফলের পাশাপাশি ইফতার প্যাকেজ সরবরাহ করা হয়। শিক্ষার্থীরা ফেসবুক পেজে প্রয়োজনীয় ফলের পাশাপাশি ইফতার সামগ্রী অর্ডার করতে পারবে। আমরা সেগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দেই। এছাড়াও কেউ চাইলে সশরীরে দোকানে এসে ক্রয় করতে পারবেন।
কেমন সাড়া পাচ্ছেন প্রশ্নে ওমর ফারুক বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশেপাশের মেসগুলো থেকে অনেকে দোকানে আসেন। অনেক সময় এত ভিড় হয় চাপ সামলাতে নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ জনের ইফতার প্যাকেজের অর্ডার আসে। বিকেলের পর থেকেই দোকানে ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। দৈনিক প্রায় শতাধিক ক্রেতা সশরীরে এসে ফল ক্রয় করেন। সব মিলিয়ে সবার দোয়া, ভালোবাসায় বেশ সাড়া পাচ্ছি।
প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, যেকোনো উদ্যোগের শুরুতে মূলধন একটা বড় সমস্যা। প্রাথমিক অবস্থায় মূলধন সংগ্রহ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। প্রত্যেকে ১০ হাজার করে মোট ৩০ হাজার টাকা দিয়ে উদ্যোগের শুরু। আমরা সবাই শিক্ষার্থী সেক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কারণ আমাদের জন্য এই সংখ্যাটা বেশ বড়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার-দেনা করে আমাদের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দোকানের জায়গা পেতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আমির হামজা বলেন, ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। শুধু রমজান মাস নয় সামনে মৌসুমি ফল নিয়ে কাজ করব। রাজশাহী যেহেতু আমের জন্য বিখ্যাত তাই আগামী দিনে সারাদেশে সুলভ মূল্যে ভালো ফল পৌঁছে দেব। পাশাপাশি লিচুসহ মৌসুমি যেকোনো ধরনের ফল নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।
যারা নতুন উদ্যোগ শুরু করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কামরুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে উদ্যোক্তা হতে হলে প্রবল ইচ্ছা থাকা আবশ্যক। কথায় আছে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ -এই কথাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। কে কি বলল তা নিয়ে মাথা ঘামানো যাবে না। আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজে মনোযোগী হতে হবে। অনেক সময় লোকসান হতে পারে সে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। তবেই সফলতা আসবে।