প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বর্ষার বৃষ্টিতে ধারণ করে এক মোহনীয় রূপ। যার প্রেমে পড়ে যায়- বইয়ের ভেতরে মুখ গুঁজে থাকা ক্লাস টপারও। দলবেঁধে শিক্ষার্থীরা ভিজতে নামেন বৃষ্টির ধারায়। গ্লানি মুছে আর জরা ঘুচিয়ে সে তারুণ্য মেতে থাকে বৃষ্টির টুপটাপ সুরে। হাতের মুঠোয় থাকা ক্যামেরায় সওয়ার হয়ে সে উচ্ছ্বাসের ছিটে লাগে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও।
বর্ষায় ক্যাম্পাসে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করতে দেখা যায় মার্কেটিং বিভাগের এক ঝাঁক শিক্ষার্থীদের। কথা হয়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নিশা বণিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেকদিন থেকেই ইচ্ছে ছিল ক্যাম্পাসে বৃষ্টিবিলাস করার। আষাঢ়ের বৃষ্টি দেখে আর লোভ সামলাতে পারিনি। ক্যাম্পাসে এটাই প্রথম বৃষ্টিতে আনন্দনউল্লাস করলাম বান্ধবীদের সঙ্গে। বেশ উপভোগ করলাম। বৃষ্টিবিলাসের স্মৃতি পাতায় গাথা থাকবে আজীবন।
.png)

আরেক শিক্ষার্থী ফাতেমা সুবর্ণা নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, বর্ষার আগমনে আমাদের এই সবুজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য শতগুণ বেড়ে যায়। কদমফুলের সৌন্দর্য বাড়তি মাত্রা যোগ করে। সবুজ ক্যাম্পাসে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা উপভোগ করার মতো। বৃষ্টিতে ভেজার মধ্যেও একটা প্রাকৃতিক আবহ ও ভালোবাসা বিদ্যমান। তাই সুযোগ পেলেই বৃষ্টিতে ভিজে বৃষ্টিবিলাস উপভোগ করি।
বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের বৃষ্টি আর ফুটবল খেলার মেলবন্ধনও। ভেজা মাঠে চির প্রচলিত খেলার আনন্দে মত্ত থাকে অনেকেই। অন্যদিকে গানের আসর জমে ওঠে হলের টিভি রুম ও টিএসসিতে। বৃষ্টির ঝুমঝুম ছন্দের তাল ওঠে বন্ধুদের গিটারে। কেউবা মুক্তমঞ্চের পাশের রাস্তায় প্রেয়সীর পায়ে পা মিলিয়ে চলতে থাকে। উপভোগ করে প্রতিটি বৃষ্টিবিন্দু।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তানজিল রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ভিজতে কার না ভালো লাগে। বর্ষায় বৃষ্টির পানি জমে থাকা মাঠে ফুটবল খেলার মজাই আলাদা। যখনই সুযোগ আসে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে নেমে পরি দলবল নিয়ে। যারা নিয়মিত খেলেন না, তারাও আজকে খেলবে। কে ভালো খেলে- আর কে খারাপ খেলে তা দেখার অবকাশ নেই। সবাই দল বেঁধে হৈ হুল্লোড় করে বৃষ্টিতে মাঠে নামবে, গায়ে কাঁদা মাখবে, পানি ছেটাবে, গড়াগড়ি করবে। ছোট-বড় সবমিলিয়ে যেন বাঁধভাঙ্গা আনন্দ আসে সবার মনে।