ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বেরোবিতে শিক্ষার্থীর অনুপাতে বাড়েনি বাসের সংখ্যা, দুর্ভোগ চরমে

ফারহান সাদিক সাজু, বেরোবি
প্রকাশিত: ১৬:০৯, ২১ আগস্ট ২০২৩
বেরোবিতে শিক্ষার্থীর অনুপাতে বাড়েনি বাসের সংখ্যা, দুর্ভোগ চরমে
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষার্থীর অনুপাতে বাড়েনি বাসের সংখ্যা। ফলে লোকাল বাসের মতো গন্তব্যে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে বাস রয়েছে মাত্র ১১টি। যা মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় অপ্রতুল।প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রচণ্ড গরমেও গাদাগাদি করে গন্তব্যে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। 

সরজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ডে দুইটি বাস তিন বছর ধরে পরিত্যক্ত পরে আছে। অপরদিকে সচল বাসগুলোর অধিকাংশেরই ফ্যান নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন। চলমান বিআরটিসি বাসে কোনো ফ্যানই নেই। এছাড়াও ৬ নাম্বার বাসে দুইটি ও ৭ নাম্বারে বাসে দুইটি এবং ৮ নাম্বার বাসে একটি ফ্যান নেই।

শিক্ষার্থীরা বলছে, পরিত্যক্ত বাস মেরামত করার বিষয়ে জানানোর পরেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ পুল। এছাড়াও  করুণ অবস্থায় রয়েছে কমলাসুন্দরী খ্যাত বাসগুলো। রং-লোগো সম্বলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বাসগুলো দীর্ঘদিন কোনো মেরামত হয়নি।

Advertisement

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র তিনটি আবাসিক হল থাকায় শহরকেন্দ্রিক বিভিন্ন জায়গায় মেসে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। মেস থেকে ক্লাসে যাওয়ার পথে পরিবহনে জায়গা থাকে না। এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে স্বল্প দূরত্বে যেসব শিক্ষার্থী বস করে তাদেরকে গণপরিবহন এবং অটো-সার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী প্রণয় মোহন্ত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের ওপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সে তুলনায় গাড়ির সংখ্যা নগণ্য। এর মধ্যে আবার দুইটি বাস ভঙ্গুর অবস্থা পরে রয়েছে। পরিত্যক্ত বাসদুটি মেরামত, চলমান বাসগুলোর সব সমস্যা সমাধান, বিশেষ করে ফ্যান, লোগো ও রং করাসহ বাসের সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। 

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ নূর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রায়ই বাসে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। বাসে সংরক্ষিত কোনো মহিলা আসন তো নেই-ই, বরং ছেলে-মেয়ে উভয়কেই একসঙ্গে করে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়, যা এখন নিত্যদিনের চিত্র। ছেলেদের কাছে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করাটা মোটামুটি স্বাভাবিক মনে হলেও অধিকাংশ মেয়েদের কাছে বিষয়টি বিব্রতকর ও অপ্রীতিজনক। 

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী লিমন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বরাবরই প্রতিটি শিক্ষার্থীদের আবেগের ও অনুভূতির জায়গা। পরিবহণ ফি বাবদ প্রতি সেমিস্টারে একটা বিশাল অঙ্কের টাকা প্রশাসন নিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাসের সংকট দূর করার কোনো ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীরা যারা টিউশন করাই বা বাসা, মেস হতে ক্লাস পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে আসি প্রায় সময়ই বাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে যাওয়া-আসা করতে হয়। 

সার্বিক বিষয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পরিবহণ পুলের পরিচালক ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস খানেক এর মধ্যে সেটি যুক্ত হবে। পুরাতন বাস দুটি মেরামতের জন্য চিঠি দেওয়া হচ্ছে। অনেক বেশি বাজেটের বিষয়, বাজেট আসলেই কাজ শুরু হবে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: বেরোবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!