ক্যাম্পাসে যাওয়া-আসার এই যানবাহন নিয়ে আবেগ, রোমাঞ্চের যেন অভাব নেই। রয়েছে কতোশত গল্প। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যখন ঢাকার বুকে এই বাস দেখে, তারাও কতো স্বপ্ন আঁকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজরঙা বাসগুলো অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ায়।
যারা দেশের একমাত্র আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন, তাদের অনেকের একটা বড় সময় কাটে এই বাসে বসে। তাই বাসযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু স্মৃতি। এসব বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, তাদের ঝোলায় গল্পের শেষ নেই।
.png)
ক্যাম্পাসের বাসগুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা টের পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবহণ চত্বরে গেলেও। বাসের সামনে দাঁড়িয়ে দল বেঁধে ছবি তোলার চিত্র দেখা যায় নিয়মিত। বিশেষত, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তো এটি রীতিমতো ‘অবশ্যকর্তব্য’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে নিজেদের এই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটির দিন হোক আর ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততম দিন- প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ক্যাম্পাসের ৭০০ একরের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে আসে, আবার ফিরে যায়।
রাইয়ান এমনই একজন, যিনি প্রায় প্রতিদিনই এই বাসে চড়ে যাতায়াত করেন। চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের হাজারো স্মৃতির ধারক ও বাহক এই ক্যাম্পাসের বাস। এটি আমাদের ক্যাম্পাস জীবনের আবেগের অংশ। ক্যাম্পাস ছাড়লে এই সোনালি স্মৃতি নিশ্চয়ই তাড়া করে বেড়াবে।
এই বাস যখন রাস্তার ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়, পথচলতি মানুষ অনেক সময়ই দেখে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে গান করতে। বাসের মধ্যেই তৈরি হয় অনেকের বন্ধুত্ব। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস জীবন হয়ে ওঠে আনন্দ বেদনার মহাকাব্য।
শিক্ষাজীবন শেষ করার পর কর্মজীবনে প্রবেশ করা কোনো শিক্ষার্থী যখন ঢাকা রাস্তায় এই সবুজ বাস দেখে তখন তার বুকের মধ্যে আঁতকে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতি। অদৃশ্য এক মায়া তাকে ঘিরে ধরে। অনেক সময় আবেগপ্রবণও হয়ে ওঠেন তারা।
হাসানুর রহমান তাদেরই একজন। পাঁচবছর আগে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেছেন। ধানমন্ডির অফিস থেকে বের হয়ে মাঝেমধ্যেই জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ বাস তার চোখে পড়ে। বাসের শিক্ষার্থীদের দুরন্তপনার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ক্যাম্পাস জীবনে। একটু পরেই তার মনে পরে ফিরতে হবে অন্য গন্তব্যে। চাইলেও তাই আর হয়ে ওঠে না সবুজ বাসে চড়া।