মুজিবুর রহমান রূপক বলেন, ‘২০২২ সালে দুটো কিডনি বিকলের সময় হার্টের ভালব-এ ইনফেকশনও হয়। ভারতের একটি হাসপাতালে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ও ওপেনহার্ট সার্জারির মাধ্যমে ভালভ রিপ্লেসমেন্ট করি। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার সমুদয় অর্থ মানুষের উদাত্ত দানে আমি নতুন জীবন ফিরে পাই। আর সেইসব হৃদয়বান মানুষদের জন্যই বইটি উৎসর্গ করেছি আমি। বর্তমানে সুস্থ হলেও প্রতিমাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ঔষধের পিছনে খরচ হয়। বইটি বিক্রয়ের সমুদয় লভ্যাংশ আমার চিকিৎসায় ব্যয় করছি। বইটি প্রকাশ করেছে ‘ঐতিহ্য’।
প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি জানিয়ে রূপক বলেন, কিডনি বিকল হওয়ায় অদ্ভুত বিপন্ন সময় নেমে আসে আমার জীবনে। বন্ধুরা, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই, জুনিয়র ভাইবোনরা আমার চিকিৎসার ফান্ড কালেকশন করতে লাগল। অসহ্য ডায়ালাইসিস, সপ্তাহে তিনদিন। একসময় আমার স্মৃতি লোপ পেতে থাকল। শ্বাসকষ্ট হয়ে প্রায় মরার উপক্রম হয় কয়েকবার। হাত পা শীর্ণ হয়ে যায় ৷ তখনো একাকী ডায়ালাইসিস রুমে আমি ভাবতাম, সুস্থ হয়েই একটা গল্পের বই লিখব। গল্পের বিষয় নিয়ে ভাবতাম ডায়ালাইসিস বেডে। বন্ধু হাসনাত সুহান এসে বলল, 'পাণ্ডুলিপি দাও, বাকিটা আমি দেখছি।' আমার ভেতর বই করার সাধ আরো বেশি দেখা দেয়। কিন্তু পাণ্ডুলিপি তখন প্রস্তুত করার অবস্থা ছিল না আমার।
.png)
তিনি আরো বলেন, ভারতে আমরা দুই ভাই-ই যাবার তিনদিন পর বাবা মারা গেলেন, এর দুইদিন পর শুনি হার্টের ভালভ রিপ্লেস করতে হবে, -ওপেনহার্ট। সার্জারি হয়। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ক্রমে ভাই, ছোট ভাই তুহিন, ভাগিনা সবাই দেশে চলে যায়। আমি সাহস করে একা থেকে যাই ভারতে। রান্নাবান্না, ডায়ালাইসিস, টেস্ট - সবকিছু একাই করি প্রায় একমাস। পরে আবার ভাই ফিরে আসে। সেই একাকী অদ্ভুত সময়ে স্বপ্ন দেখতাম, দেশে ফিরে যেতে পারলে একটা বই করব। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করে এ বছরের ৪ জানুয়ারি দেশে আসি৷ এক অপার্থিব কর্ম স্পৃহা অনুভব করি, এক নতুন জীবনের প্রারম্ভ।
রূপক বলেন, ক্যারিয়ার, পরিবার, প্রত্যাশা, স্বপ্ন পূরণের সন্ধিক্ষণে আমার জীবন একটা নাটকীয়তার মুখোমুখি হয়। তবুও এই সময়ে, আমার বইটা প্রকাশ হলো। ভেতরে প্রচণ্ড আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। বইটা নিয়ে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুভূতি, মতামত ও আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই আমার প্রতি সহানুভূতি ও বাৎসল্যপ্রবণ৷ তবুও পাঠক হিসেবে আপনাদের নিরপেক্ষ মতামত চাই, নিজেকে যাতে ঋদ্ধ করতে পারি।
উল্লেখ, মজিবুর রহমানের ডাকনাম রূপক। জন্ম নেত্রকোনার হাওর উপজেলা মোহনগঞ্জের আজমপুর গ্রামে। প্রাথমিক আর মাধ্যমিক পড়েছেন এলাকার বিদ্যালয়ে। আর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিষয়ে স্নাতক আর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।