ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ড্রাইভার নয়, যেন একজন পিতা

ফারহান সাদিক সাজু, বেরোবি
প্রকাশিত: ১৯:১৬, ২ অক্টোবর ২০২৩
ড্রাইভার নয়, যেন একজন পিতা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসচালক জাবেদ আলী। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত মুখ জাফেদ আলী। দীর্ঘ এক যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেন। সময়মতো নিয়ে আসেন ক্যাম্পাসে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সাথে সময় কাটানোর ফলে রক্তের সম্পর্ক না হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হয়েছে তার আত্মার সম্পর্ক। এ সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়। শিক্ষার্থীরাই তার সন্তানের মতো। পিতা যেমন হাত ধরে রাস্তা পাড় করে, তেমনি জাফেদ আলীও দায়িত্ব সবাইকে যত্নে রাখার। তারা বাসে উঠলেই শিক্ষার্থীদের মন ভরে যায়। কথাগুলো বলছিলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাসচালক জাবেদ আলী সম্পর্কে। 

জাফেদ আলী ২০১১ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনিই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসচালক। দীর্ঘ এক যুগ থেকে শুধু শিক্ষার্থীদেরই বহন করছেন। এই কাজ করতে গিয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের স্নেহ করেন। শিক্ষার্থীরাও তাকে সম্মান করেন। এতেই তিনি খুঁজে পান সুখ।

জাবেদ আলী বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও প্রথম শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বাসের বরাদ্দ হয় ২০১১ সালে। আমিও তখনই জয়েন করি। অন্য কেউ বড় বাস না চালালেও আমার ভাগে আসে শিক্ষার্থীদের বড় বাসটি। তখন একটি বাস নিয়েই শিক্ষার্থীদের পরিবহণ করতাম। এখন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বাসের সংখ্যাও।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক সম্মান করে যা এক ধরনের ভালোলাগা তৈরি করে। গাড়িতে যাওয়া-আসা ছাড়াও কোথাও দেখা হলে সালাম দিয়ে কথা বলে। শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওঠা-নামার জন্য বললে তাদের নিয়ে আসা বা নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। এভাবেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গাড়িতে যাতায়াত করা ছেলে-মেয়েরা এখন অনেক বড় বড় জায়গায় চাকরি করেন। দীর্ঘদিন না দেখার ফলে আমি অনেকেরই চেহারা ভুলে গেছি। হঠাৎ করে কেউ ক্যাম্পাসে এলে কিংবা কোথাও কারো সঙ্গে দেখা হলে তারা সালাম দিয়ে নিজের পরিচয় দেয়, তখন মনটা আনন্দে ভরে ওঠে।

মিশুক স্বভাবের হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও গাড়িচালক জাবেদ আলীকে পছন্দ করেন। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, জাবেদ মামা ভালো মনের মানুষ। নিয়মিত তার গাড়িতেই যাতায়াত করি। কোথাও নামতে চাইলে তিনি কখনোই বিরক্ত হন না।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহনা বলেন, জাবেদ মামা দেখে বুঝে গাড়ি চালান। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের দিকেই নজর দেন। যথা সময়ে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করেন। মানুষের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমুজ্জামান আলিফ বলেন, জাবেদ মামার ব্যবহার অমায়িক। শিক্ষাদেরকে অনেক ভালোবাসেন। তিনি শান্তভাবে গাড়ি চালান, যা অন্য ড্রাইভাররা করে না।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!