কথাগুলো বলছিলেন মো. মোর্শেদ উল আলম রনি। দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় তিনি শুধু কালো রঙের পোশাক পরিধান করছেন। এমনকি তার জুতা থেকে শুরু করে টুপি, মোটরসাইকেল, চশমা, হাতঘড়ি, মোবাইল ফোনেও আছে কালোর ছোঁয়া।
রনি বর্তমানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন। ব্যতিক্রমী সাজপোশাক দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে নিজের অনন্য পরিচয় দাঁড় করিয়েছেন।
.png)
আলাপকালে তিনি জানান, কালোর প্রতি তার দুর্বলতা জন্ম নেয়। ১৭ বছর আগে। তখন তিনি স্নাতক সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তখন থেকেই তিনি কালোকে ভালোবেসে পথচলা শুরু করেন। সব ঋতুতেই তিনি সমানভাবে এই রঙের পোশাক পরেন। আস্তে আস্তে অভ্যাস করে গরমের দিনেও এই পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন নিজেকে।
রনি বলেন, নিজের উপযোগী কালো রঙের পোশাক সংগ্রহ করতে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এখন দোকানিরাও তার পছন্দ জানেন। নিজেরাই ফোন করে পোশাকের খবর দেন।
কালো পোশাক পরার ক্ষেত্রে রনি দুটি বিষয়ে চিন্তায় ছিলেন। বিয়ের দিনের পোশাক আর যে পেশায় যাবেন সেখানে ড্রেস কোড থাকবে কি না। দুটোই তিনি সামাল দিয়েছেন সফলভাবে। বিয়ে করেছেন কালো পোশাক পরেই। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতেও পরিধেয় বস্ত্রের রং নিয়ে বাধাধরা কোনো নিয়ম নেই। এখন তারা ইচ্ছা, এই বিষয়ে গিনেস বুকে নাম ওঠানো।
রনির কালোর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তার স্ত্রী লায়লা খাতুন। তিনি বলেন, 'বিয়ের পর প্রথম যে শাড়ি এবং প্রথম যে জামাটা রনি নিজে পছন্দ করে কিনে দিয়েছে সেটাও ছিল কালো। অনেক চেষ্টা করেও আমি তাকে অন্য কালারের জামাকাপড় পরাতে পারিনি। এখন ভাবি, ও যেটা পছন্দ করে সেটাই পরুক। আমি এখন ওর জন্য সবচেয়ে সুন্দর কালো পোশাকটাই পছন্দ করে দিতে সাহায্য করি, হোক সেটা কালো শার্ট, গেঞ্জি, ফতুয়া বা পাঞ্জাবি।'
রনির দীর্ঘদিনের সহকর্মী ফিরোজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে চাকরি করছি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কালো রঙের পোশাক পরিধান করে একটা আলাদা বিশেষত্ব তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে তার একটি আলাদা ব্যক্তিত্বও প্রকাশ পায়।
কালোর প্রতি রনি প্রীতি শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ না, তার সংগ্রহে আছে বাহারি রকমের দেশি-বিদেশি কালো রঙের মগ। তিনি বই পড়তে অনেক ভালোবাসেন। তার বাড়ির লাইব্রেরিতে রয়েছে নানা বিষয়ের বইয়ের সমাহার।