ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
শেকৃবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা:

৫২’র বিস্ফোরণই ৬৯-৭১-এ সাহস যুগিয়েছিল

শাহেদ মাহমুদ, শেকৃবি
প্রকাশিত: ১৭:২৩, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
৫২’র বিস্ফোরণই ৬৯-৭১-এ সাহস যুগিয়েছিল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাঙালি জাতিসত্তার মূল ভিত্তিই ‘বাংলা ভাষা’। এই বাংলাকে বাঙালিদের মুখে টিকিয়ে রাখতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকে বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি বিশেষ দিন ‘২১ ফেব্রুয়ারি’। এ দিনে বাংলার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন বরকত, জব্বার, সালামসহ নাম না জানা অনেকে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে অর্জন ও এর গুরুত্বসহ নানা বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।

রক্তে অর্জিত ভাষা বাংলা

Advertisement

যে বাঙালি একসময় ‘বাঙালি মানেই ভিতু’ পরিচয়ে পরিচিত ছিল, যাদের মাতৃভাষা ‘নিন্দনীয়’ বলেও মন্তব্য করেছিল বহুজন, সেই বাঙালিই মায়ের ভাষাতেই বাঁচবে বলে হাসতে হাসতে বরণ করেছিল শত্রুর বুলেট।

পৃথিবীতে চলমান প্রায় ৭ হাজার ১১১টি ভাষার মধ্যে রক্তে অর্জিত ভাষা বাংলা। মাতৃভাষার দিকে চোখ তুলে তাকানোর অপরাধে সালাম, বরকত, রফিকসহ নাম না জানা দেশের অগণিত সন্তান বুকের রক্তস্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছিল লোলুপ দৃষ্টিধারীদের। বায়ান্নর বিস্ফোরণই উনসত্তর-একাত্তরকে সাহস যুগিয়েছিল অধিকার ছিনিয়ে আনতে।

কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষার দায় আরো বেশি। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বাংলার সঙ্গে পাশ্চাত্য দেশের ভাষার সংমিশ্রণ অত্যাধুনিকতার নামে যে অপসংস্কৃতির বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে বিশেষত তরুণেরা; তা ন্যক্কারজনক।

৫২’র তরুণদের দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে অর্পিত হয়েছে এ যুগের তরুণদের ওপরে; যারা ২১ মানে শহিদমিনারে ফুল দেওয়ার আগে ২১ ধারণ ও লালন করবে নিজের মধ্যে।

হালিমাতুস সামিয়া
২য় বর্ষ, কৃষি অনুষদ

মুক্তিযুদ্ধের সূতিকার হিসেবে কাজ করে মাতৃভাষা আন্দোলন

ভাষা আমাদের মনের কথা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম, আর মাতৃভাষা হলো তার মধ্যে প্রধানতম। মাতৃভাষা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিক দিক থেকে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকার হিসেবে কাজ করে মাতৃভাষা আন্দোলন। মাতৃভাষা দিবস আমাদের সব ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এছাড়াও আমাদের বাংলা ভাষার সর্বময় প্রচলন এখন সময়ের দাবি। ভাষা দিবস আমাদের সেই জিনিসটি বারবার মনে করিয়ে দেয়।

মো. মেজবাহ হোসেন
২য় বর্ষ, এএসভিএম অনুষদ

মাতৃভাষার স্বাদ অন্য ভাষাতে নেই

বিবৃতি হোক বা সারাংশ, ঘৃণা হোক বা প্রণয়, আশীর্বাদ হোক বা অভিশাপ, সম্মান প্রদর্শন হোক, এসব কিছু নিজের মায়ের ভাষায় ছাড়া অন্য ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে ভাবের গভীরতা যথাযথ প্রকাশ পায় না।

মাতৃভাষার যে স্বাদ তা আর কোনো ভাষাতেই পাওয়া যায় না। ক্যাম্পাসে যখন  চাঁপাইনবাবগঞ্জের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের মায়ের থেকে শেখা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলি তখন মনে হয় নিজ গ্রামেই আছি।

একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমার মাতৃভাষা আমার কাছে অনেক বেশি মর্যাদার। আর সেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জাতির সূর্যসন্তানরা নিজেদের জীবন দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিকে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবস পালন হয়ে আসা আমাদের বাঙালিদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।

২১ ফেব্রুয়ারি আমাদেরকে বিশ্বের মানচিত্রে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এই দিবসটিতে আমাদের সবার উচিত ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা।

জাহিদ হাসান
২য় বর্ষ, এএসভিএম অনুষদ

একুশকে কখনো ভোলা সম্ভব না

ভাষা শব্দটি আক্ষরিক বিবেচনায় ছোট একটি শব্দ হলেও এর তাৎপর্য অমূল্য। বাঙালির ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরো ইতিহাস সমৃদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতার প্রথম মাইল ফলক একুশকে কখনো ভোলা সম্ভব না। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি আত্মত্যাগের দিন না। এটি একটি স্বপ্ন, একটি বেদনা, একটি আনন্দ। আমাদের কাছে একুশের চেতনা মানে সব অন্যায় থেকে মুক্তি লাভের চেতনা। একুশের চেতনা দুর্নীতি পরিপন্থি। পৃথিবীতে বাঙালিই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। তবে সময়ের স্রোতে আমরা তার মর্যাদা দিতে ভুলে যাই। প্রতি মুহূর্তেই বাংলার সঙ্গে বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণ করে ভাষার বিকৃতি ঘটিয়ে ফেলি। ভাষা শহিদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান রেখে হলেও আসুন আমরা ভাষার সঠিক প্রয়োগ এবং শুদ্ধ বানান চর্চার প্রতি সচেতন হই। তবেই এত আন্দোলন, এত আত্মত্যাগ সফলতা লাভ করবে।

ইফাত মারজানা মাহদিয়াত খান
২য় বর্ষ, কৃষি অনুষদ

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: শেকৃবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!